মেইন ম্যেনু

বাগানে মুকুলের ঘ্রাণ: আম চাষীরা ব্যস্ত গাছ পরিচর্যায়

শাহিনুল ইসলাম আশিক, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী: আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহী। রাজশাহীর আম কদরী আলাদা। আর রাজশাহীর আমের দেশ ব্যাপি ব্যাপক কদর রয়েছে। রাজশাহীর আম বাগানগুলো এখন মুকুলে ভরপুর। অনেক গাছে গুটি আসতে শুরু করেছে। গাছগুলোর মুকুলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আম উপাদনে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, এ অঞ্চলে প্রতিবছর প্রায় আড়ইশ জাতের আম উৎপন্ন হয়। এগুলোর মধ্যে এ বছর ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপলি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা ও মোহনভোগ জাতের আমের চাষ বেশি হয়েছে।

এ বছর রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে আমচাষ হচ্ছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। গত বছর এ অঞ্চলে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

এদিকে, এ বছর আম গাছগুলোতে হোপার পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়ায় আম চাষিরা নানা ধরনের বালাইনাশক ওষুধ ব্যবহার করছেন। চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর গ্রামের আম চাষি নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর তার আম গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল দেখে তিনি এ অঞ্চলে আমের বাম্পার ফলনের আশা প্রকাশ করছেন। তবে আম গাছগুলোতে হপার পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাই তিনি বিভিন্ন কোম্পানির তরল কীটনাশক গাছে ব্যবহার করছেন। এটি ব্যবহারের ফলে গাছে আসা মুকুলগুলো সতেজ থাকবে ও ভালো ফলন হবে বলে জানান।

চারঘাটের মুগলীর এলাকার আমচাষি রঞ্জিত সরকার বলেন, গত বছর তার আমের গাছগুলোতে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল এ বছর তার দ্বিগুণ মুকুল এসেছে। তবে বেশ কিছুদিন থেকে তার গাছগুলোতে হপার নামের এক ধরনের পোকার আক্রমণ লক্ষ্য করছেন। এ পোকার হাত থেকে মুকুলকে রক্ষা করতে তিনি গাছে তরল কীটনাশক স্প্রে করাবেন বলে জানান।

বানেশ্বর এলাকার আবদুল হামিদ নামের এক আমচাষি জানান, তিনি পেশায় একজন কৃষক। তার নিজস্ব আমের বাগান রয়েছে। প্রতিবছর আমের মুকুল দেখে লাভের আশায় বুক বাধেন। তিনি নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেছেন। বিশেষ করে হোপার পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে মুকুলকে রক্ষা করতে এক দফা তরল কীটনাশক স্প্রে করিয়েছেন।

ফল গবেষণা কেন্দ্র, রাজশাহীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দীন জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজশাহী অঞ্চলের গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে মুকুলগুলোকে রক্ষা করা গেলে রাজশাহী অঞ্চলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।