মেইন ম্যেনু

বাগান করতে ভালোবাসেন? জেনে নিন দারুণ কিছু টিপস

নাগরিক জীবন কি শুধু পড়াশোনা আর চাকরির পেছনে ছুটেই কাটিয়ে দেবেন? না, অনেকেই জীবনটাকে উপভোগ করেন নিজের নিজের মতো করে। এমন একটি উপায় হলো বাগান করা, সেই বাগান একচিলতে উঠোনেই হোক আর ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দাতেই হোক। বাগান করা মানসিক প্রশান্তি দেয়, শরীরটাকেও রাখে সুস্থ। তবে বাগান করার কিছু ছোট ছোট টিপস আছে যা আপনার কাজ সহজে করার পাশাপাশি বাগানের চাকচিক্যও বাড়িয়ে দিতে পারে। চলুন দেখে নিই এসব টিপস।

১) খবরের কাগজ

যারা বাইরে বাগান করেন তারা জানেন শীতকালে এবং খুব গরম পড়লে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ওপরে এক ধরণের আবরন দিতে হয়, যাকে বলা হয় মালচ (mulch)। এর জন্য একেক জন একেক ধরণের দ্রব্য ব্যবহার করেন। কেউ ঝরাপাতা, খড়, পলিথিনের শিট ব্যবহার করেন। কিন্তু খুব ভালো মালচ হতে পারে বাড়িতে থাকা পুরনো খবরের কাগজ। কয়েক স্তরে খবরের কাগজ গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাটিতে দিয়ে রাখলে একদিকে যেমন আলোর অভাবে আগাছা মারা যাবে তেমনি মাটির আর্দ্রতাও ধরে রাখবে।

২) ফার্ন ভেজান চা দিয়ে

অনেকের বাগানে ফুল-ফলের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন ফার্নও বেড়ে ওঠে সযত্নে। ফার্ন এবং হাইড্রেঞ্জার মতো কিছু গাছে পানি দেওয়ার বদলে চা দিতে পারেন। সাধারণ চা তৈরি করে, ঠাণ্ডা করে তা দিয়ে দিন এসব গাছে। এগুলো ফার্নের পাতাকে আরও সজীব করে তুলবে।

৩) গোলাপ গাছের পরিচর্যা করুন কলার খোসা দিয়ে

কলার খোসা কেটে শুকিয়ে নিন। এগুলোকে গোলাপ গাছের আশেপাশে এক ইঞ্চি গর্ত করে পুঁতে দিন। এগুলো অ্যাফিড নামের ক্ষুদ্র পোকাগুলোকে দূরে রাখবে।

৪) অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পোকা ও পাখি দূরে রাখে

মালচের ওপরে অল্প করে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিতে পারেন। এতে পোকামাকড় ভয়ে দূরে থাকবে। এছাড়া এতে গাছ বেশি আলোও পাবে। কিন্তু খুব বেশি দেবেন না। কারণ বেশি রোদ পড়লে গাছ পুড়ে যেতে পারে। পাখির উপদ্রব দূর করতে ফয়েল লম্বা করে কেটে ঝুলিয়ে দিন। এছাড়া পুরনো ক্যাসেটের ফিতাও বাগান ঘিরে বেঁধে দিতে পারেন। এতে আলোর প্রতিফলন পাখি দূরে রাখবে।

৫) শামুক দূর করুন লবণ দিয়ে

শামুক খুব কম সময়ে বাগানের সর্বনাশ করে দিতে পারে। বাগানে শামুক দেখতে পেলেই সাথে সাথে এর ওপরে বেশ করে লবণ ছিটিয়ে দিন। ও দ্রুত মরে যাবে, আপনার বাগানের ক্ষতি করতে পারবে না।

৬) কম্পোস্টের দুর্গন্ধ দূর করুন

গাছকে যথাযথ পুষ্টি দেবার জন্য কমার্শিয়াল সারের পরিবর্তে অনেকেই কম্পোস্ট সার তৈরি করে নেন নিজেই। কিন্তু কম্পোস্ট যেভাবেই তৈরি করুন না কেন, তাতে খুব বাজে একটা দুর্গন্ধ হয়। কাগজ ভিজিয়ে ছিঁড়ে নিন এবং এগুলোকে কম্পোস্টের সাথে মিশিয়ে দিন। এতে গন্ধ কম হবে।

৭) মাটিকে পুষ্টি দিন

অম্লীয় মাটি পছন্দ করে এমন গাছের আশেপাশে নতুন বা ব্যবহৃত চাপাতা ছিটিয়ে দিন এবং ওপরে অল্প করে মাটি ছড়িয়ে দিন। গাছে পানি দিলে এই পানির সংস্পর্শে চাপাতা বেশ কিছু উপকারী পুষ্টি দান করবে মাটিকে।

৮) প্রজাপতিকে ডেকে আনুন ফল দিয়ে

বাগানে ফুটছে ফুল অথচ প্রজাপতি নেই, তা কী করে হয়? প্রজাপতিকে ডেকে আনতে পারেন ফলের মিষ্টি সুগন্ধ ছড়িয়ে। বেশি পেকে যাওয়া কলা বা অন্য কোনো মিষ্টি সুগন্ধের ফল রেখে দিন বাগানের পাশে। এটা অবশ্যই রাত্রে রেখে দেবেন না কারণ এতে বাগানে ইঁদুর চলে আসবে।

৯) আগাছা মারুন লবণ দিয়ে

শুধু শামুক মারতেই নয়, আগাছা মারতেও লবণ কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখাশোনার একটু অভাবেই পছন্দের গাছের বদলে আগাছায় ভরে যায় বাগান। এক কাপ লবণ এবং দুই কাপ পানির একটি মিশ্রণ তৈরি করে তা সরাসরি আগাছার ওপর ঢেলে দিন, এরা মারা যাবে। এটা আপনার প্রিয় গাছের ওপর দেবেন না কিন্তু, তাহলে পুরো বাগান শুকিয়ে শেষ হয়ে যাবে।

এছাড়া আরও যেসব টিপস আপনার কাজে আসতে পারে সেগুলো হলো-
– আপনি কতটুকু যত্ন নিতে পারবেন, সেই হিসেব করে গাছ নির্বাচন করুন
– আগাছা বড় হবার জন্য অপেক্ষা করবেন না, ছোট থাকতেই ছেঁটে ফেলুন
– নিজের একটা জার্নাল রাখুন বাগানের ব্যাপারে, ভবিষ্যতে কাজে আসবে
– বাগান যতটা সম্ভব ছিমছাম, পরিষ্কার রাখুন
– পোকায় ধরা ডালপালা, পাতা ছিঁড়ে দ্রুত ফেলে দিন বা পুড়িয়ে ফেলুন