মেইন ম্যেনু

‘বাঙালি ফিনিক্স পাখির মতো মৃত্যুহীন’

বাঙালি ফিনিক্স পাখির মতো মৃত্যুহীন। এ জাতি সব অর্জনই করতে পারে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিক নির্দেশনার।

বর্তমান সরকার এই দিক নির্দেশনার কাজ করে যাচ্ছে। আমি আবারো জোর দিয়ে বলছি ২০৩০ সালের আগেই এ দেশ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্রতা দূর হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিকল্পনা কমিশনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্র’ নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জীবন চক্রের বিভিন্ন ঝুঁকিকে হিসেবে নিয়ে তা মোকাবেলা করতেই সরকার জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্র হাতে নিয়েছে।

মুস্তাফা কামাল আরো বলেন, দারিদ্রতা দূরীকরণে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে আসছে। কিন্তু এসব কার্যক্রমে সমন্বয় করার মতো কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নীতিমালা ছিল না। চলতি বছর একটি নীতিমালা করা হয়েছে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য। এটি হচ্ছে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্র, যা দেশ থেকে দারিদ্রতা দূর করতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে ‘ন্যাশনাল সোস্যাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি অব বাংলাদেশ’ নামের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এম এম আকাশ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে সরকার ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। সরকার এখন চাইছে আট কোটি লোককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে।

এতে করে প্রত্যেকের ভাগে বছরে ৩ হাজার ৮৩০ টাকা করে পড়ে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা আট কোটি মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দেব নাকি চরম হত দরিদ্র ২ কোটি মানুষকে বছরে ১৫ হাজার ৩২০ টাকা করে দেব।’

বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমরা মাথাপিছু কম বরাদ্দ দিয়ে বেশি সুবিধাভোগী নেব না মাথাপিছু বেশি বরাদ্দ দিয়ে কম সুবিধাভোগী নেব এটা অবশ্যই নীতি নির্ধারণের বিষয়। তবে প্রথমে সামাজিক সুরক্ষার জন্য একটি স্থায়ী টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।

ড. শিরীন শারমিন এ সময় উদাহরণ টেনে বলেন, দরিদ্র শিশুদের স্কুলগামী করতে ইউনিসেফ একটি প্রকল্প হাতে নেয় যাতে করে দশ হাজার শিশুর স্কুলের খরচ বাবদ প্রত্যেককে মাসে এক হাজার পাঁচশ টাকা করে দেবে। এ সংখ্যা এখন কিন্তু বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা বিধবা ভাতা বাবদ মাসে ১০০ টাকা করে দিতাম এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকায়। একইভাবে প্রত্যেক হত দরিদ্র এখন মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছে। এসব উদাহরণ এটিই নির্দেশনা দেয় আমাদেরকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে হবে।

স্পিকার বলেন, এবার জাতিসংঘে এসডিজি অনুমোদনের সময় বলা হয় এর লক্ষমাত্রা অর্জন প্রত্যেকটি উন্নয়নশীল দেশকে নিজের অর্থায়নে করতে হবে। আমাদের সরকার এ কাজটি বহু আগ থেকেই করে আসছে। এবারও রাজস্ব বাজেটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন, ‘হত দরিদ্র, পশ্চাৎপদ এসব প্রত্যয় উঠিয়ে দিতেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি’।

বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জীবনচক্র ভিত্তিক হওয়ায় শহর ও গ্রামের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বেশি করে এর আওতায় আনতে হবে।

বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড.বিনায়ক সেন বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম দক্ষতার সাথে পরিবীক্ষণ করতে হবে যাতে করে সব বয়সের এবং সব সম্প্রদায়ের হত দরিদ্র জনগোষ্ঠী সর্বাধিক সুবিধা পায়।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডিএফআইডি’র এদেশ প্রধান সারা কুক বলেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে সামাজিক সুরক্ষাখাতে সরকারকে সবধরণের সহযোগিতা দিতে আমরা আগ্রহী। সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সফল করতে গবেষণা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর পলেন টামেসিস বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সবসময় এ বিষয়টিকে প্রধান্য দিতে হবে যেন কোন হত দরিদ্র এ থেকে বাদ না পড়েন এবং তাকে যেন নানা উপায়ে এ কার্যক্রমের সঙ্গে সস্পৃক্ত রাখা হয়।