মেইন ম্যেনু

‘বাঙ্গিস্তান’ নিয়ে কেন এতো বিতর্ক?

মুক্তি পাওয়ার আগেই বিতর্কের ঝড় তুলেছে রীতেশ দেশমুখ এবং পুলকিত সম্রাট অভিনীত ‘বাঙ্গিস্তান’। বেশ কিছু দেশে ‘বাঙ্গিস্তান’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ছবিটি কোনওভাবেই ধর্মবিরোধী নয়, বরং সন্ত্রাসবিরোধী একথা জানিয়েছেন প্রযোজক রীতেশ সিধওয়ানি। পাকিস্তান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত এবং বাহরিনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছবিটিকে। ছবিটি মূলত একটি হিন্দু ও মুসলিম ছেলের জীবনযাত্রা নিয়ে তৈরি, যারা মানব বোমা হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।

ছবির কাহিনীতে, নাশকতার উদ্দেশে আত্মপরিচয় পরিবর্তন সন্ত্রাসপন্থীদের মধ্যে এক ‘কমন ট্রেন্ড’। আত্মপরিচয় তাদের কাছে ধর্মীয় আইডেন্টিটি। সন্ত্রাসপন্থীদের মধ্যে এটা একটা ‘কমন ট্রেন্ড’। এই ট্রেন্ড নিয়েই ‘বঙ্গিস্তান’ দুই সন্ত্রাসবাদীর গল্প। যারা নিজেদের ধর্মীয় আত্মপরিচয় গোপন রেখে একে অপরের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। কিন্তু এই আত্মপরিচয়ের বদল থেকে কি তাদের নিজেদের ভাবনার বৃত্তে কোনও ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে না? এই প্রশ্নটাকেই নিজের ছবির কেন্দ্রে রেখেছেন পরিচালক কর্ণ অংশুমান। ‘বঙ্গিস্তান’-এ কাহিনীর গভীরে কাজ করছে এই আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের মনস্তত্ত্ব।

তবে ছবির শেষে শান্তির বার্তাও দিয়েছেন পরিচালক। তা সত্ত্বেও ছবিটি কেন মৌলবাদীদের রোষে পড়ল তা নিয়ে যথেষ্ট বিব্রত প্রযোজক রীতেশ সিধওয়ানি। ঠিক কোন কারণে ছবিটিকে নিষিদ্ধ করা, তা-ও বুঝতে পারছেন না তিনি। তবে ইতিমধ্যেই সব দেশের সেন্সর বোর্ডের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন ছবির পরিবেশক। ছবি ঘিরে বিতর্ক প্রভাব ফেলছে ব্যবসায় মত সহপ্রযোজক ফারহান আখতারেরও। তবে বিতর্ক থাকলেও ছবিটির সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আশাবাদী প্রযোজক। বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘বাঙ্গিস্তান’ শুধুমাত্র শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তাই দেবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন রীতেশ।

কর্ণ অংশুমানের পরিচালনায় এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রীতেশ দেশমুখ, পুলকিত সম্রাট, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, চন্দন রায় সান্যাল প্রমুখ। ফারহান আখতার এবং রীতেশ সিধওয়ানির প্রযোজনায় এ ছবিতে সুরারোপ করেছেন রাম সম্পত।