মেইন ম্যেনু

বাছুর নিয়ে ডিসির কার্যালয়ে!

অসুস্থ বাছুর কোলে নিয়ে ডিসির কার্যালয়ে যাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে আসামের হাইলাকান্দি জেলায়। এ ঘটনাটি এখন সেখানে মুখরোচক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এ কাণ্ড ঘটে শুক্রবার। সবে কাজ শুরু হয়েছে হাইলাকান্দির জেলা প্রশাসক দফতরে। হঠাৎ দফতরের দোতলায় জেলা প্রশাসকের ঘরের সামনে বাছুর কোলে হাজির হন আফতাব। নিরাপত্তাকর্মীরা হতবাক হয়ে যান। কীভাবে বাছুর নিয়ে কেউ ডিসির ঘরের সামনে পৌঁছে গেলেন, সেই প্রশ্ন ছড়ায় প্রশাসনিক মহলে। ডিসির কাছে বাছুর আসার কথা মুহূর্তেই জানাজানি হয়ে যায়। আর ভিড় জমে যায় ডিসির কার্যালয়ের সামনে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খায় পুলিশ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পরিস্থিতি সামলাতে কাজ ফেলে সেখানে ছুটে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এফ আর লস্কর। কথা বলেন বাছুরের মালিক আফতাবউদ্দিনের সঙ্গে।

আফতাব জানান, এক দিন আগে বাছুরটি জন্মেছে। মায়ের দুধ খাচ্ছে ঠিকঠাক। হাঁটতে-চলতেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কিছুতেই মলত্যাগ করতে পারছে না। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পরামর্শে আফতাব বাছুরটিকে নিয়ে যান হাইলাকান্দি শহরের জেলা পশু চিকিৎসালয়ে। কিন্তু অপেক্ষা করেও সেখানে কোনো চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছিলেন না তিনি। তখন ওখানকার এক কর্মী তাকে বাছুর নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে যেতে বলেন- জানান আফতাব। আর তাই তিনি ডিসি কাছে বাছুরটিকে নিয়ে আসেন।

এদিকে এ খবর জেনে আফতাবকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান ডিসি মলয় বরা। আর ডাক পেয়ে সেখানে যান জেলার পশু চিকিৎসা কর্মকর্তা রসিদ আহমেদও। তিনি বাছুরটিকে শিলচরে পাঠানোর পরামর্শ দেন। বাছুরের অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে ডিসিকে জানিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চাপ সামলান।

আলোচনা কিন্তু তাতে থেমে যায়নি। আদালতে হাতি পেশ করার গল্পের সঙ্গে জুড়ে যায় আফতাবের বাছুরের কাহিনিও। কয়েক মাস আগে হাইলাকান্দির আদালতে হাজির হয়েছিল হাতি। এবার জেলা প্রশাসকের দফতরের দরজায় পৌঁছাল একদিন আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া বাছুর! তাতেই দিনভর মশগুল থাকল গোটা শহর।