মেইন ম্যেনু

বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানোর প্রস্তাব

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং নগদ ঋণের পরিমাণ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ২৫ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা; প্রস্তাবিত বাজেটে যা দশমিক ৩ শতাংশ কম।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৪ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। যার আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি এবারও ৫ শতাংশই ধরা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

বাজেটে সাধারণতঃ খাদ্যসহ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত খাতে ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়ে থাকে। প্রস্তাবিত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খাদ্য ভর্তুকি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে ২৪৩ কোটি টাকা কম ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিয়ে থাকে। প্রতি অর্থবছরের মত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটেও এ খাতে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে কৃষিখাতে ৯০০ কোটি, রপ্তানি প্রণোদনা খাতে ৩ হাজার কোটি এবং পাটজাত দ্রব্যের জন্য ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেটে এ তিনটি খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫০০ কোটি টাকা কম বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নগদ ঋণ খাত থেকে সাধারণত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ (বিপিসি) কয়েকটি খাতের জরুরি চাহিদা মেটাতে এ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রস্তাবিত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে নগদ ঋণ খাতের জন্য ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটা কমানো-বাড়ানো হয়নি। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ১১ শ’ কোটি টাকা কম বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নগদ ঋণ খাতে পিডিবির জন্য ৮ হাজার কোটি, বিপিসির জন্য ৮০০ কোটি এবং অন্যান্য খাতের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে পিডিবির জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা, বিপিসি’র জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্যখাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে তা পিডিবির জন্য ৯ হাজার কোটি, বিপিসির জন্য ৬০০ কোটি এবং অন্যান্য খাতের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ লাখ টন। আগামী ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে তা ধরা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৭৫ লাখ টন। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অপরিবর্তিত থাকলে আগামী অর্থবছরে কৃষিখাতে নগদ সহায়তার পরিমাণ হবে চলতি অর্থবছরের সমান অর্থাৎ ৯ হাজার কোটি টাকা।