মেইন ম্যেনু

বাজেটে ভ্যাট আইন নিয়ে সংশয়

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এবারের বাজেটে চমক দেওয়ার মতো তেমন কিছু থাকছে না। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন যে, এবারের বাজেট হবে গতানুগতিক। তবে অবকাঠামোসহ বড় বড় খাত উন্নয়নে ‘ক্যাপিটাল বাজেট’ শীর্ষক একটি ঘোষণা থাকবে বাজেটে। এতে সাময়িকভাবে আটটি বড় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকবে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আরও ২-৩টি প্রকল্প এতে যোগ হতে পারে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের সংশয় নিয়েই নতুন বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার প্রায় শেষ সময়েও এ ক্ষেত্রে সংশয় কাটেনি। তবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাওয়া হবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

বিদায়ী বছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাজেট ঘাটতি ৮ শতাংশ হবে বলে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। কিন্তু ঘাটতি হলেও নতুন বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমছে না। বরং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ‘উচ্চাভিলাষী’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার নতুন বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এটা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটের মূল আকার ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কাটছাঁটের পর চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটকে ভিত্তি ধরলে আগামী বাজেটের আকার বাড়বে ২৯ শতাংশের মতো।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, নতুন বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৯৭ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। বাকি ৫৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে। চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দসহ হিসাব করলে এডিপির আকার দাঁড়াবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। চলতি বছর এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এবার বাজেটে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে ১০০টি নতুন গ্যাস কূপ খনন এবং একটি এলএনজি গ্যাস টার্মিনাল নির্মাণে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-কে আরও শক্তিশালী করতে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে।

উল্লেখ্য, দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০২১ সালের মধ্যে ৫৭টি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছিল জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এখন এ সংখ্যা ১০০-টিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এসব কূপ থেকে আনুমানিক দৈনিক ১ হাজার ৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ১ হাজার ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

জেলা বাজেট ব্যর্থ হলেও এটি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে জেলা প্রশাসনের সংস্কার, ভূমি রাজস্ব আদায় ও হস্তান্তর জেলা প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হতে পারে।

এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ২৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকছে বাজেটে। বর্তমানে বিনিয়োগের হার ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে আগামী তিন বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ লাখ মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় নিতে আসা হবে।

এ ছাড়া বরাবরের মতো এবারও বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়বে। এ ছাড়া ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমিয়ে আনা হতে পারে। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে কমিয়ে তা করা হচ্ছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রণোদনা ১২ হাজার ৫০০ কোটি, নগদ ঋণ ৭ হাজার কোটি ও ভর্তুকি ৩ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। প্রণোদনার মধ্যে রয়েছে কৃষিতে ৯ হাজার, রপ্তানিতে ৩ হাজার এবং পাটজাত দ্রব্যে ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জন্য আগামী বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

অন্যান্যের মধ্যে কার্যকরী তেমন সুফল না মিললেও পিপিপি খাতে এবং ‘মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ’ নামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকছে বাজেটে। এদিকে এবার বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতের তেমন কোনো উল্লেখ থাকবে না বলে ইতিপূর্বে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ব্যাংকিং খাত নিয়ে কিছু বলা না হলেও ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের কথা থাকতে পারে।