মেইন ম্যেনু

বাজেট হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার

আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার তিন লাখ ৪০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আকারের কারণে নতুন বাজেটে ঘাটতিও বেশি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। বাজেটে ঘাটতি হতে পারে ৯৭ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। যার পুরোটাই হয়তো ব্যাংকিংখাত ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হবে। কারণ দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এখন আর বাজেট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বেশি থাকছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ায় সরকারের ব্যয় বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা যে অর্জিত হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অবস্থায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিংখাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যা ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংকিংখাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয় ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ২৪ হাজার ১৩২ কোটি টাকা এবং স্বল্প মেয়াদি ঋণ ১৪ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। অন্য দিকে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক ঋণের ৪৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা আর স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৫ হাজার কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি জিডিপির ১২ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। এই রাজস্ব আয়ের মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং কর ছাড়া প্রাপ্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, প্রস্তবিত বাজেটে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা খাতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রাক্কলন করা হচ্ছে এক লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ।

এ ছাড়া আগামী অর্থবছর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।