মেইন ম্যেনু

মন্ত্রী হচ্ছেন দিপুমনি, ফারুক, তাপসসহ ৬ নেতা

বাদ পড়ছেন মায়া-কামরুল ও আশরাফ!

গম কেলেংকারীতে সময়ের সবচেয়ে আলোচিত খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সৈয়দ আশরাফসহ তিনজনকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় দেয়া হচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন চলছে কুটনৈতিক পাড়ায় ।

এর আগে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর থেকে মন্ত্রিসভায় রদবদল হচ্ছে-এমন আলোচনার গুঞ্জন শুরু হয়। সে সময় সিটি নির্বাচনে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কারস্বরূপ দলের কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন ছিল। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী বেশকিছু প্রতিকুল রাজনৈতিক সমস্যার কারণে তা হয়ে ওঠেনি।

তবে এবার ঈদের পরপরই সরকারের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। একই সাথে প্রায় ছয়জন মন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টন হতে পারে। মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন নতুন মুখও আসতে পারেন।

ঈদের পর মন্ত্রিসভা এবং প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল প্রসংগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিসভায় নিয়োগ ও দফতর বণ্টনসংক্রান্ত কাজের প্রক্রিয়া করতে সব সময় প্রস্তুতই থাকে। শুধু সরকার থেকে সবুজ সংকেত পেলেই তা বাস্তবায়নে কাজ করা হয়।

এছাড়াও সরকারের উচ্চপর্যায় এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে রদবদল করা হবে। সূত্র মতে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া ঈদের পরই বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পদে যোগ দেবেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন বর্তমান স্বরাষ্ট্র সচিব ড. মোজাম্মেল হোসেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রদবদল হতে পারে।

ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে গঠিত মন্ত্রিসভায় ত্যাগী নেতাদের সম্মানিত করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুসময়ে হাইব্রিড নেতাদের উত্থানেও টলেননি তিনি। তখন থেকে ছিটকে পড়া নেতাদের কম পরীক্ষা নেননি প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মন্ত্রিসভায় নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা।

বিভিন্ন দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, দলীয় কোন্দল নিরসন ও সমন্বয়কারী সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন।

ধানমন্ডি থানায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর পদে দলে বিদ্রোহী প্রার্থী দমন ও নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির জন্য ফজলে নূর তাপস এমপিও এ তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের থিংকট্যাঙ্ক খ্যাত সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, মন্ত্রিসভায় রদবদল গত বছর শেষের দিকে করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও জ্বালাও পোড়াওয়ের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। আগে যারা মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন তাদের অনেকেই দলীয় প্রধানের কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বেশ কয়েকজন নেতা দলীয় ইমেজ ফিরিয়ে এনেছেন। এখন দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় শিগগিরই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।দলীয় প্রধানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিতর্কিত নেতাদের কর্মকাণ্ডে এখনো সজাগ প্রধানমন্ত্রী। আবার অনেকে আগে ভুল করলে এখন অনেক ভালো কাজ করছেন। বিশেষ করে যেসব নেতা ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের আপ্রাণ চেষ্টা করে জিতিয়ে এনেছেন। সেই সময় প্রতিপক্ষের হিংসাত্মক রাজনীতি মোকাবিলা করেছেন, চলতি বছর শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন দমাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর জন্য আটঘাট বেঁধে নেমেছিলেন, তাদের সম্মানিত করতেই মন্ত্রিসভায় নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াত অধ্যুষিত মতিঝিল ও রমনা থানায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। থানা দুটির সব ওয়ার্ডেই ছিল বিএনপি-জামায়াতপন্থী কাউন্সিলর। কিন্তু এবার দলীয় নেতাদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও কোন্দল দমিয়ে ঐক্যবদ্ধ করার সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে প্রতিটি জেলা সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করায় আওয়ামী লীগের এই নেতার ওপর সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা। ফলে বর্তমান সরকারের শুরুতে মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া আলোচিত এ নেতা এবার মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক দলীয় প্রার্থী সাঈদ খোকনের সঙ্গে হাজী সেলিম, কামরুল ইসলামের ঐক্য ও বিদ্রোহ দমনে সফল হওয়ায় তার দ্বারও খুলছে। উত্তর সিটিতে দলীয় প্রার্থী আনিসুল হকের হয়ে দলের নির্দেশে ব্যাপক কাজ করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ ছাড়া বর্তমানে দলে তার অবস্থা অনেক সক্রিয় হওয়ায় তিনিও মন্ত্রিসভায় ফিরছেন বলে জানা গেছে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের ক্ষেত্রেও তেমনটিই শোনা গেছে।

অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থান পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক। জানা গেছে, লতিফ সিদ্দিকী অপসারিত হওয়ার পর ডাক, টেলিযোগযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়টি এখনো খালি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও নেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। আরো কয়েকজন মন্ত্রী রয়েছেন যাদের কাজে প্রধানমন্ত্রী অখুশি। এসব মন্ত্রীর কাজের ফাইল অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে জমা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা গঠন করার পর থেকেই সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী তার কিছু কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে সরকারকে কয়েকবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদার আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ‘ক্যাশ চাই’ বক্তব্য নিয়েও সরকার ও দল বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল। অন্যদিকে কিছু কিছু মন্ত্রী আছেন, যারা দুর্নীতিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদেরও খেসারত দিতে হতে পারে।