মেইন ম্যেনু

বান্দরবানের লামা পৌরসভা নির্বাচনে ২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির নীল নকশা

৩০শে ডিসেম্বর বান্দরবানের লামা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে পৌর নির্বাচনের ২নং ও ৬নং ভোট কেন্দ্র ২টি পরিবর্তন নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা চলছে এলাকায়। এবারের লামা পৌর নির্বাচনে মেয়র কাউন্সিলর সহ মোট ৪৫জন প্রার্থী নিয়ে ৯টি কেন্দ্রে ৩৯টি বুথে ১১ হাজার ৪৪৯ জন ভোটার ভোট দেবে।

পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটাদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উক্ত ওয়ার্ডে ভোটার ১২৩০ জন। লামা নির্বাচন অফিস কতিপয় প্রার্থীদের সুবিধা দিতে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে দীর্ঘদিনের ৬নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গাবিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রটি বাতিল করে ওয়ার্ডের এক কোণে পাহাড়ে পাশে কলিঙ্গাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোট কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করেন। ওয়ার্ডের এক কোণে পাহাড়ের পাশে কেন্দ্রটি হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সহ প্রায় ৮শত ভোটার কেন্দ্র এসে ভোট দিতে খুবই কষ্টকর হবে।

৬নং ওয়ার্ডের সিলেটি পাড়া ও সাবেক বিলছড়ি মার্মা পাড়ার চিংম্রাঅং মার্মা, মংবাইগ্য কারবারী ও ক্য থোয়াই চিং মার্মা বলেন, নতুন কেন্দ্রটির দূরত্ব সোয়া ২ কি.মি। ভোট কেন্দ্র দূরে হওয়ায় উপজাতি, বৃদ্ধ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি কম হবে। মেইনরোড থেকে একটু ভিতরে এবং পাহাড়ের পাশে নিরিবিলি জায়গা হওয়ায় যে কোন সময় ভোট কেন্দ্রে অঘটন ঘটিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে জানায় প্রার্থী ও ভোটাররা।

অপরদিকে ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২নং ওয়ার্ডে লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বাতিল করে নতুন কেন্দ্র করা হয়েছে লামা আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো অন্ধাকার আচ্ছন্ন, যাতে দিনের বেলায় বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে পাঠদান করতে হয়।

তাছাড়া বিদ্যালয়টিতে মাঠ নেই। এতে করে ভোটারদের লাইনধরে ভোট দেয়ার কোন সুযোগ থাকবেনা। কেন্দ্রের আশে পাশে ঘনবসতি ও সীমানা প্রাচীর সংযুক্ত সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি থাকায় নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোট দেয়ার সু-ব্যবস্থা নিয়ে আশংকা প্রকাশ করে এলাকাবাসী।

তাছাড়া বিষয়টি আমলে নিতে ২নং ওয়ার্ডের অর্ধশত ব্যাক্তি লামা নির্বাচন অফিসের মাধ্যম দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী সামশু, আবু তৈয়ব, জামাল উদ্দিন সহ অনেকে জানান লামা নির্বাচন অফিস উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে লামা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মত সু-প্রস্থত একটি কেন্দ্র বাতিল করে ব্যাক্তি বিশেষের সুযোগ দিতে এইকাজ করেছে।

উক্ত কেন্দ্র দু’টিতে ভোট জালিয়াতির ও ভোট ছিঁড়ে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় পূর্বের দু’টি কেন্দ্র বহাল রেখে নতুন দু’টি কেন্দ্র বাতিল করার জোর আবেদন জানায় এলাকাবাসী।

অভিযোগ দু’টি নিয়ে লামা পৌর-নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার শফিকুর রহমান বলেন, কেন্দ্রের তালিকা চুড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই মুহুর্তে আমাদের করার কিছুই নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দিতে আমি তাদের পরামর্শ দিয়েছি।