মেইন ম্যেনু

বান্দরবানে উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের ২ সেনা সদস্যকে হস্তান্তর

বান্দরবান সীমান্তে উদ্ধার হওয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুই সদস্যকে মিয়ানমারের বিজিপির কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

দুই দেশের সীমান্তবাহিনীর পতাকা বৈঠকের পর তাদের হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকৃত মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য হলেন-ডেপুটি সার্জেন্ট নাইং টুন ও সৈনিক খিন লিট।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এ সময় বিজিবি মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্যকে হস্তান্তর করে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ১৭ ব্যাটালিয়নের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকের মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের হস্তান্তর করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই উদ্ধারকৃত মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে বান্দরবানের থানছির গভীর জঙ্গলে রেখেছিল। বিজিবির অভিযানে অপহরণকারীরা অপহৃতদের জঙ্গলে ফেলেই পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়।

বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন বান্দরবানের থানছি ও আলীকদম সীমান্তে অভিযান চলে। অভিযানে সেনাবাহিনীর পাঁচটি ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে বান্দরবান সীমান্তের ৬৭ নম্বর মেইন পিলার থেকে ট্রাইইজংশন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে বান্দরবানের গভীর জঙ্গল থেকে মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্যকে উদ্ধার করা হলেও কোনো অস্ত্র বা বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আটক করা যায়নি।

আরো জানা গেছে, সর্বশেষ অভিযান ছাড়াও গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি টানা ১০দিন চারটি দল থানছির বলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। গত ১২ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত টানা চারদিন ১৫টি দল নাইক্ষ্যংছড়িতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। গত ২ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত তিনটি দল থানচির বলিপাড়া এলাকায় তৃতীয় দফায় অভিযান চালায়। চতুর্থ দফায় অভিযানকালে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিক উদ্ধার হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার ১৯৮ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকা অরক্ষিত ছিল। বর্তমানে বিজিবি পুনর্গঠনের আওতায় ৮টি বিওপি স্থাপন করে। এতে করে অরক্ষিত সীমান্ত ৫০ কিলোমিটার কমে আসে।