মেইন ম্যেনু

বান্ধবীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে থানায় জিডি

পুরুষের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু নারীদের বিরুদ্ধে পুরুষদের নিপীড়নের অভিযোগও যে নেই তেমন না। সম্প্রতি চাঁদপুর মডেল থানায় কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ এনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এক ছাত্রের পরিবার। এরপর থেকে চাঁদপুরে সবার মুখে এখন একই আলোচনা।

জিডি সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নে। সে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী। আর ছেলেটি ঢাকার তেজগাঁও ট্রেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

জানা গেছে, ওই ছাত্রী দীর্ঘদিন থেকে একই এলাকার জাহিদুল ইসলাম নামে তার এক বন্ধুকে মোবাইলে ফোন করে ও এসএমএসের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

দুজনই চাঁদপুর সরকারি কলেজে একই সঙ্গে এইচএসসিতে পড়াশুনা করতো এবং তারা একই গ্রামের বাসিন্দা। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওই ছাত্রী প্রতিনিয়ত তার মোবাইল দিয়ে কল করে এবং এসএমএসের মাধ্যমে জাহিদুলকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে।

ঘটনাটি পরিবারকে জানালে একাধিকবার এলাকার গণ্যমান্যদের নিয়ে আলোচনায় বসে ওই ছাত্রীর পরিবারকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি মেয়েটি।

গত ১০ নভেম্বর ওই ছাত্রী জাহিদুলকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ওই দিনই সে তাদের ঘরে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ফাঁস দেয়। পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সুস্থ্য হওয়ার পর মেয়েটি আবার জাহিদুলকে ফোন দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে।

জাহিদ জানায়, ‘দেখা না করলে সে আমাদের বাড়িতে এসে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। নিরুপায় হয়ে ২৫ নভেম্বর তার সঙ্গে দেখা করলে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।’

কিন্তু রাজি না হওয়ায় সে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার ফুফাতো ভাইকে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে ইভটিজিংয়ের দায়ে আমাকে গ্রেপ্তার করায়। পরে আমার পরিবারের লোকজন পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানালে, উভয়পক্ষকে সতর্ক করে আমাকে ছেড়ে দেয়। এরপরও নিরাপদ মনে না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।

জিডির কথা স্বীকার করে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ছেলে মেয়ে দুজনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। আমরা দুই পরিবারকে ডেকে সমস্যাটি সমাধানের জন্য বলে দিয়েছি। সমস্যা হলো ছেলেটি না চাইলেও মেয়েটি তাকে পেতে নাছোরবান্দা।’