মেইন ম্যেনু

‘বান্ধবী’ নিয়ে মারামারি, ২ ছাত্র জখম

‘পরীক্ষা দেয়া না দেয়া’ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এক শিক্ষার্থীর এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে অপর দুই শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করানো হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের নিচ তলায় এই ঘটনা ঘটে।

দুপুরে ঘটনার পর আহতদের প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেলে এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টসূত্রে ও প্রতক্ষ্যদর্শীদের ভাষ্যমতে, পরীক্ষা দেয়া না দেয়া নিয়ে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে বাসায় যাওয়ার সময় কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসারের সাথে তার সহপাঠী এক মেয়ে শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে ওই মেয়ে শিক্ষার্থী তার ছেলেবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী গোলাম রাব্বী তানভীর দুপুরে তার বন্ধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান ও নবাব সিরাজউদদৌলা হল শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গৌতম রায় গতকাল বাসে ভিতরে ঘটা বিষয়টি নিয়ে কাউসারের সাথে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের নিচে কথা বলতে থাকে।

কথা বলার এক পর্যায়ে তাদের বাকবিতণ্ডা চলতে শুরু করে। এমন সময় কাউসার তার ব্যাগের মধ্যে থাকা ছোরা বের করে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। এতে সেখানে উপস্থিত তানভীর ও আরাফাত মারাত্মকভাবে আহত হয়। ইতোমধ্যে হলের নিচে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে গেলে অবস্থা বেগতিক দেখে রক্তমাখা হাত নিয়ে দৌড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই র‌্যাব-২ এর ক্যাম্পে প্রবেশ করে আত্মসমর্পণ করে কাউসার। র‌্যাব তাকে তাদের হেফজতে নিয়ে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

র‌্যাবের কাছে কাউসারের জবানবন্দি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো দুলাল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছেলেটি বলেছে, গককাল তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে ফেসবুকে একটু আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়েছিল। যার জন্যে আজ সকালে তাকে তানভীর ও আরাফাত সিরাজ-উদ-দৌলা হলে ডেকে পাঠায়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গৌতম রায়ের উপস্থিতিতে তাকে তারা মারতে থাকে।’

কাউসার আরো অভিযোগ করেছে, ‘এসময় তাদের হাতে ছুরি ছিল। কাউসার ছুরি কেড়ে নিয়ে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করতে করতে দৌড়ে পালায়।’

শেকৃবির প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস বলেন, ‘শেকৃবির একজন শিক্ষার্থী কাউসার নামে আমাদের কাছে আটক আছে। আমরা তাকে মারামারি করার জন্যে ধরে নিয়ে এসেছি।’

সর্বশেষ তথ্যমতে তানভীরকে ঢাকা মেডিকেলে অপারেশন চলছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা আরাফাতকেও অপারেশন করার প্রক্রিয়া চলছে।