মেইন ম্যেনু

বাবার খুনি প্রেমিকের শাস্তি চেয়ে প্রেমিকার মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জ : ফতুল্লায় আলোচিত মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি প্রেমিক তুহিনকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার প্রেমিকা ঝর্ণা রাণী। তাকে অপহরণ করে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েই তার বাবা মনিন্দ্র অধিকারীকে হত্যা করে তুহিনসহ বন্ধুরা।

শুক্রবার (১০ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে পুরোহিত গোপাল গাঙ্গুলী, সেবক নিত্যরঞ্জন পান্ডেসহ ধর্মযাজক, বৌদ্ধভিক্ষু, মুয়াজ্জিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে অংশ নেয় ঝর্ণা। ওই সময় বক্তরা মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি তুহিন এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসময় ঝর্ণাও তুহিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। মানববন্ধনে ছিলেন মনিন্দ্র অধিকারীর স্ত্রী প্রজাপতি রায়ও।

প্রসঙ্গত, ফতুল্লার রগুনাথপুর এলাকায় গত ১৬ মার্চ ভোরে প্রেমের সূত্র ধরে স্কুল পড়ুয়া তরুণীকে তুলে নেয়ার সময় বাধা দেন তার বাবা মনিন্দ্র অধিকারী (৪৫)। তখন তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে প্রেমিক তুহিন ও তার সহযোগীরা। প্রেমিক দ্রুত পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ধারালো ছুরি ও দু’টি মাইক্রোবাসসহ সাতজন এবং পরে আরো একজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী প্রজাপতি রায় বাদী হয়ে আটক আটজনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। কিন্তু মনিন্দ্র অধিকারী হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি প্রেমিক তুহিনকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তুহিন রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতো। যার কারণে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশের দাবি।

মনিন্দ্রের তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে বর্ণা অধিকারীর বিয়ে হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। মেঝ মেয়ে ঝর্ণা রানী অধিকারী (১৬) স্থানীয় হাজী পান্দে আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে রত্মা অধিকারী (৯) স্থানীয় শুভেচ্ছা কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণি ও ছেলে কৃষ্ণ প্রিন্স (৫) একই স্কুলের শিশু শ্রেণির ছাত্র।

ঝর্ণা রানী বলেন, ‘গত বছর রগুনাথপুর এলাকাতে কালীপূজার অনুষ্ঠানে ডিজে পার্টির আয়োজন করে স্থানীয়রা। ওই অনুষ্ঠানেই ডিজে পার্টিতে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে আসে ঢাকার শ্যামপুর এলাকার জনৈক তুহিনের মালিকানাধীন ‘তুহিন সাউন্ড সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তুহিন শ্যামপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। ওই অনুষ্ঠানেই তুহিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তখন ‘তুহিন আমাকে প্রস্তাব দিলেও সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। কারণ তুহিন মুসলমান আর আমি হিন্দু।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায়শই তুহিন আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। আর সে কারণে চাপে পড়ে আমি গত বছর সোনারগাঁয়ে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে গিয়েছিলাম। পরে ঢাকার শ্যামপুর ইকোপার্কে ও সবশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি পাগলা মেরি এন্ডারসনে তুহিনের সাথে দেখা করি। এরপর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখি। পরে তুহিন তার বন্ধু তানভীরকে আমাদের বাসায় পাঠায়। তানভীর আমাদের বাসায় এসে অনেক উচ্চবাচ্চ্য করে। এসময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মারধর করে। ওই সময় তানভীরের পরিবারের লোকজন পুলিশ নিয়ে আমাদের এলাকায়ও গিয়েছিলেন।’

ঝর্ণা বলেন, ‘একদিন ভোর ৪টায় আমাকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে তুহিন ও তার বন্ধুরা। তখন বাধা দিতে গেলে আমার বাবাকে তারা ছুরি মেরে হত্যা করে। পরে এলাকার লোকজন ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ওই সময় পালিয়ে যায় তুহিন ও তার বন্ধু সবুজ।’

ওই ঘটনায় আটককৃতরা হলো- নজরুল ইসলাম (৩৫), মনিরুল ইসলাম মনির (৩৪), জাহিদ (২০), আলভার্ট সুশান্ত (১৯), জুয়েল (২৫), বাবু (২১) ও হৃদয় (২৬)।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে পাঁচজন। ১০ জন আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন প্রধান আসামি তুহিন ও তার বন্ধু সবুজ পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।