মেইন ম্যেনু

বাবার মৃত্যুও ক্রিকেট থেকে ফেরাতে পারেনি কোহলিকে

বয়সটা তখন তার ১৮। খেলছিলেন রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লি হয়ে কর্নাটকের বিপক্ষে। ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কোহলি ব্যাট করছিলেন ৪০ রান নিয়ে। বিকেলেই শুনলেন হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে তার ৫৪ বছর বয়সী বাবা মারা গেলেন। বাবার শোকে সারা রাত কান্না করলেন কোহলি। সকালে উঠে মৃত বাবাকে রেখে আর খেলতে আসবেন না কোহলি- এটাই ভেবেছিল সবাই।

কিন্তু কী অবাক করা কাণ্ড। কোহলি সকালে সকালে উঠে কোচকে ফোন করলেন, আমি ইনিংসটা শেষ করতে চাই। কী বলে ছেলে? কোচ তো অবাক। এমন মানসিক শক্তিও থাকে নাকি কারও যে, মাত্রই মৃত্যুবরণ করা বাবার শোককে সঙ্গী করে ব্যাট করে যাবেন তিনি। কিন্তু কোহলি জেদ দেখে কোচ আর না করলেন না।

ব্যাট করতে নেমে ৯০ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। তাতে বেঁচে গেলো দিল্লি। ম্যাচটা ড্র হয়েছিল। সেঞ্চুরি না হোক ৮০ কিং ৭০ রানের ইনিংসও কখনও কখনও সেঞ্চুরির চেয়ে অনেক বড় হয়ে যায়। কিংবা ম্যাচজয়ী ছোট্ট কোন ইনিংসও তখন অনেক বড় হয়ে যায়। কোহলির কাছে সেই ৯০ রানের ইনিংসটা জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট।

বাবার মৃত্যুও তাকে ক্রিকেট থেকে ফেরাতে পারেনি। জীবনটাই তখন থেকে বদলে গিয়েছিল কোহলির। বুঝলেন ক্রিকেটছাড়া তার জীবনে আর কিছু নেই। এরপর অনেক খারাপ সময় থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে এই ক্রিকেটই।

বিরাটের কাছে একটা সেঞ্চুরির থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানো ৭৫ বা ৮০ রান। যা কোহালির রানের তালিকায় একাধিক রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। এখন তার বয়সও ২৭। সেই সময়টার কথা ভেবে সিএনএনকে কোহালি বলেন, ‘আমার এখনও সেই রাতের কথা স্পষ্ট মনে আছে যে রাতে বাবাকে হারিয়েছিলাম। আমার জীবনের সব থেকে কঠিন সময় ছিল সেটা; কিন্তু পরদিন সকালে উঠে নিজের ভিতর থেকেই এল খেলতে হবে।’

তার পরই কোচকে ফোন করা। বলেন, ‘আমি কোচকে ফোন করেছিলাম। আমি বললাম আমি খেলতে চাই। কারণ, আমার জন্য ক্রিকেট ম্যাচকে মাঝ পথে ছেড়ে দেওয়াটা অন্যায়। ঠিক সেই সময় অনেকটা বদলে গেলাম। আমাকে মানুষ হিসেবে বদলে দিয়েছিল সেই সময়টা। বুঝতে পারলাম ক্রিকেট আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’