মেইন ম্যেনু

বাবা আমার চিকিৎসা করাও: মৃত্যুর পর ভাইরাল মেয়ের আর্তি

বোন ম্যারো ক্যানসারে ভুগছিল সে৷ ডাক্তার বলেছিল চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার৷ কিন্তু আসবে কোত্থেকে? মায়ের হাতে টাকা নেই৷ বাবা ছেড়ে গিয়েছে কোন ছোটবেলায়৷ উপায়ন্তর না দেখে বাবাকেই ভিডিও পাঠিয়েছিল মেয়েটি৷ চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠানোর কাতর আর্তি জানিয়েছিল৷

আর সে ভিডিও যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল, ততক্ষণে পরপারে পাড়ি দিয়েছে সে৷ অন্ধ্রপ্রদেশের এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ দেশবাসী৷ বছর তেরোর সাই শ্রীর এই ভিডিও নড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকেও৷ প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, মায়ের সঙ্গেই থাকত সাই শ্রী৷ ২০১৬-তে তার ক্যানসার ধরা পড়ে৷ তারপর চিকিৎসা চলছিল৷ কিন্তু যত দিন যাচ্ছিল তত অর্থের ভাঁড়ারে টান পড়ছিল৷ ছোটবেলাতেই তার মা-বাবা আলাদা হযে যায়৷ বাবা থাকতেন বেঙ্গালুরুতে৷

একসময় সে বুঝে যায়, মায়ের হাতে আর টাকা নেই৷ আর টাকা না থাকলে বেঁচে ফেরাও সম্ভব নয়৷ তাই যে বাবা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে, বাধ্য হয়ে তাঁর কাছেই আবেদন করেছিল৷ ভিডিওবার্তায় বাবাকে জানিয়েছিল, চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠাতে৷

এমনকী যদি বাবা টাকা নাও দেয়, তবে তাদের বাড়িটা বিক্রি করে যেন টাকার বন্দোবস্ত করা হয় এমনটাও জানিয়েছিল সে৷ মা-বাবার অশান্তি আঁচ করেই সে একটা সামাধান সূত্রও বের করেছিল৷ জানিয়েছিল, যদি মনে করে যে মা বাবার টাকায় ভাগ বসাবে, তাহলে বাবা যেন নিজে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে৷ কিন্তু এসব এখন অতীত৷ সমস্ত দোলাচল কাটিয়ে লোকান্তরিত হয়েছে ছোট্ট সাই শ্রী৷ আর তার মৃত্যুর একদিন পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে তার ভিডিওবার্তা৷

ছোট্ট মেয়ের আবেদনে কান দেয়নি বাবা৷ জানা যাচ্ছে, মেয়েটির বাবা তেলুগু দেশম পার্টির এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ৷ মেয়েটির মা যখন বাড়ি বিক্রির চেষ্টা করেন, তখন ওই বিধায়কের প্রভাব খাটিয়ে তাতে বাধা দেন মেয়েটির বাবা শিব কুমার৷ এদিকে এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর৷

যেহেতু মেয়েটির বাবার সূত্রে এক বিধায়কের নাম জড়িয়েছে, তাই চলছে দোষারোপ ও পাল্টা অভিযোগের পালা৷ যদিও মানবাধিকার কমিশনে আবেদনকারী অচ্যুত রাও জানাচ্ছেন, মেয়েটির প্রতি তার বাবা ও অন্যান্যরা যে ব্যবহার করেছে তা শিশু অধিকারে হস্তক্ষেপ৷ সুবিচারের আশায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েররও আবেদন জানানো হয়েছে তাঁর তরফে৷ পুরো ঘটনায় পুলিশকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন৷






মন্তব্য চালু নেই