মেইন ম্যেনু

“বাবা তুমি তো এখন ঘুষ খেতে পার”

সরকারের একজন যুগ্ম সচিব জনাব মাহবুব কবির মিলনের এই লেখাটা হতে পারে সরকারী কর্মকর্তা, সাধারন মানুষ, উদ্যামী তরুন-তরুনীর জন্য অন্যরকম অনুপ্রেরণা]

-বাবা তুমি তো এখন ঘুষ খেতে পার

আরে!! কি বিপদ! এ মেয়ে আবার কি বিপদে ফেলতে আসল আমাকে!! (মনে মনে বললাম)

-কেন মা? আগে যেটা পারিনি এখন কিভাবে পারব? এখন খেতে হবে কেন?

-এই যে বাবা, এখানে লিখেছে খাওয়া যাবে, উপহার হিসেবে। কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়!!

-না মা, নেয়া যাবে না। যেহেতু সেই কাজের বিনিময়ে আমি বেতন পাচ্ছি, তাই খুশি হয়ে কেউ দিতে চাইলেও তা নেয়া যাবে না। ঐ খুশির ভিতর অনেক কষ্ট থাকে মা। কঠিনভাবে আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। তুমি কি চাও তোমার বাবা আগুনে জ্বলুক?

-না বাবা, কখনোই তা চাই না। কখনোই তুমি উপহার নেবে না। আমি এমনি দুষ্টামি করছিলাম তোমার সাথে।

মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমি বোধহয় অযোগ্য অথর্ব বাবা। আল্লাহপাকের কাছ থেকে নতুন করে সংশোধনী পেলে না হয় আমরা স্পীড মানি নেয়া শুরু করে দিতাম!! কিন্তু সেটাতেও সমস্যা আছে। একবার যখন বুঝে ফেলেছি, জিনিসটা খারাপ, তাতে মানুষের কষ্ট দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে, কাজে মহান স্রষ্টার অনুমোদন পেলেও তা নেয়া আনন্দের হবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এই অর্থ উপহারের স্থূল পার্থক্য এখন এমন সূক্ষ্ম সীমারেখায় এসে পৌঁছেছে যে একটি চুলও সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। আজ আর কোন বিকার নেই অর্থ উপহার নিয়ে। যে যেভাবে, খেলেই হল। নিজে নিজেই জায়েজ করে নিচ্ছি সব। ওহীর আর কোন গুরুত্ব নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বললাম, স্যার, প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুদ কি সুদ, যেটা আমাদের ধর্মে উল্লেখ রয়েছে?

-আপনি যেটা মনে করেন। সুদ মনে করলে সুদ। মনে না করলে সুদ নয়।

-স্যার, পরিপত্রে তো আগে সুদ বলা ছিল, তারপর করলেন সুদ/ইনক্রিমেন্ট। এখন আসলে হবে কোনটা?

-আপনি যেটা মনে করেন

-স্যার, একটু ক্লিয়ার করলে ভাল হত সবার জন্য। অনেক মৌলানা বলেছেন ওটা সুদ নয়।

-ক্লিয়ারের কোন প্রয়োজন নেই। আপনি নিলে নেবেন, না নিলে সারেন্ডার করবেন।

-কেমন করে নেব স্যার? ওখানে যে সুদ লেখা আছে। তার মানে তো ওটা সুদ।

-ঠিক আছে, এবার সুদ শব্দটি তুলে দেয়া হবে।

-তাহলেও কি স্যার হবে? যদি ওটা সুদ হয়?

এরপর ভয়ে টেলিফোন রেখে দিলাম। ওহীর কদর মনে হয় দিনদিন কমে আসছে!!

কোন সৎ কর্মকর্তা ভিজিটে এসে পার্টির কাছ থেকে জামা কাপড়, জুতা মোজা উপঢৌকন ভরে নিয়ে যান। আবার কোন সৎ কর্মকর্তা ভিজিটে এসে হোটেল প্লেন ট্রেন ভাড়া লোকাল অফিসের উপর চাপিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বিদায় নেন।

মেধাবী কর্মকর্তা বিসিএস এ প্রথম চয়েস দিয়ে ঢুকেছিলেন এমন এক চাকুরীতে যেখানে কখনো ফিরে তাকাতে হয় না। এক বিল্ডিঙ্গে পোস্টিং নিয়ে খুঁজে বের করলেন, বন্ধুর বড় ভাইকে।

“ভাইয়া আমাকে এখানে টাকা কামাবার রাস্তা বের করে দিন। আর হয়ত পোস্টিং নাও হতে পারে এখানে। কাজেই এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। শুনেছি যাবার সময় উনি প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে গেছেন!! মিথ্যাও হতে পারে অংকটি।

বড়ই বেকুব ছিল ওরা। আমি বুঝি না ৩০ লাখ মানুষ একসাথে কি করে এত বেকুব হয়!!

আরে তোরা হাসতে হাসতে জীবন দিয়ে একটি স্বাধীন মাটি আর পতাকা দিয়ে গেলি, বিনিময়ে কোন উপহার বা স্পীড মানি তো চাইতে পারতিস!! মরার আগে একাউন্ট নাম্বারটা দিয়ে গেলেও তো হত, কিছু টাকা হয়ত জমা দেয়া যেত! টাকায় টাকা!! টাকা আর টাকা!! এত বেকুব কি করে হোলি তোরা!!