মেইন ম্যেনু

‘বাবা ধর্ষণ করত, মা ওষুধ দিত’

মায়ের সামনেই কয়েক বছর ধরে বাবার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। থানা-পুলিশ বা বাইরের কাউকে ঘটনাটি বলার সাহস ছিল না তার। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ক কাউন্সেলিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘হায়েনা বাবার’ কুকীর্তির কথা শিক্ষককে জানালে বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শনিবার জি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

ঘটনাটি ভারতের মুম্বাইয়ে। গত সপ্তাহে শিক্ষকের টেবিলে চুপিচুপি ছুটির আবেদনের কথা বলে একটি চিঠি দিয়ে চলে যায় সে। চিঠিটি খোলার আগেও শিক্ষক জানতেন না কী ভয়াবহ বার্তা দিয়েছে মেয়েটি। চিঠি খুলেই শিক্ষকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এতে লেখা ছিল প্রতিদিন তাকে ধর্ষিত হতে হয় বাবার দ্বারা। আর সবকিছু জেনেও চুপ করে থাকেন তার মা।

চিঠি পড়েই এক মুহূর্তে দেরি করেননি ওই শিক্ষক। এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাদের সাহায্যেই গত সোমবার মুম্বাইয়ের ভাসি থানায় বাবা, মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১৩ বছরের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী চিঠিতে লিখেছিল, আমার বাবা আমাকে ধর্ষণ করে, মা সব জেনেও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসেন না।

পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত বাবা একজন ফল বিক্রেতা। বয়স ৪৫ বছর। পুলিশকে মেয়েটি জানিয়েছে, ‘মায়ের সামনেই বাবা আমাকে ধর্ষণ করত। তারপর মাঝে মাঝেই মা আমাকের একটা করে ওষুধ খেতে দিত। আমার যখন ৭ বছর বয়স, তখন থেকে চলে আসছে এই ঘটনা। মা কখনই আমাকে সাহায্য করেনি।’

অভিযোগকারিনী মেয়েটির এক বড় বোন ও তিন ভাই রয়েছে। অন্য ভাইবোনরা বাড়িতে যখন থাকত না, তখনই তাকে ধর্ষণ করা হতো বলে জানিয়েছে সে। মায়ের সাহায্য না পেয়ে বড় বোন (১৭) কাছে ছুটে গিয়েও লাভ হয়নি। কারণ, বোনও ছিল একই পরিস্থিতির শিকার।

পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের কিছু স্কুলে কয়েকটি এনজিও শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে কাউন্সেলিং সেশন করেছিল। সেখানে যোগ দিয়েই সাহস সঞ্চয় করে মেয়েটি। তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত একটি চিলড্রেন্স হোমে রয়েছে মেয়েটি।

তথ্যসূত্র : জি নিউজ।