মেইন ম্যেনু

বার্মিংহামে পাওয়া কোরআনের অংশ নিয়ে নতুন তথ্য

কয়েকমাস আগেই যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পাওয়া গিয়েছিল পবিত্র কোরআনের কিছু অংশ। ধারণা করা হচ্ছিল বর্তমান সময়ে প্রাপ্ত কোরআনের মধ্যে এটিই ছিল প্রাচীন। এবার সেই অংশ নিয়ে আরো কিছু তথ্য প্রকাশ করলেন গবেষকরা।

গবেষকদের দাবি, বার্মিংহামে প্রাপ্ত কোরআনের আনুমানিক বয়স ১৩৭০ বছর এবং এটি আদতে মিশরের সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ আমর ইবন আল-আস এ সংরক্ষিত ছিল।

তারা জানায়, ফ্রান্সের জাতীয় জাদুঘরে থাকা কোরবানের লেখার সঙ্গে বার্মিংহামের এই কোরআনের পাতারও হুবুহু মিল রয়েছে। ফ্রান্স কলেজের কোরআন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসবিদ ফ্রাসেয়া দেরোসে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বার্মিংহামে কোরআনের অংশগুলোর প্রথম সন্ধান পান আল্বা ফেদালি নামে এক গবেষক। তিনিও নিশ্চিত যে প্যারিসের যাদুঘরে সংরক্ষিত কোরআনেরই অংশ এটি।

তবে কোরআনের আদিস্থানের ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেলেও এখনো এর সময় নিয়ে নিশ্চিত নন গবেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই হয়তো এটি লেখা হয়েছিলে। সে ধারণা সত্যি হলে এটি হবে মোহাম্মদ (স.) এর জীবদ্দশায় লিখিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, মোহাম্মদের মৃত্যুর ১৩ বছর পরে এটি লেখা হয়েছিল।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিষ্টান এবং ইসলাম বিষয়ক অধ্যাপক ডেভি থমাস বলেন, যিনি এই কোরআনটি অনুলিপি করেছিলেন তিনি হয়তো মোহাম্মদকে খুব ভালোভাবে চিনতেন।

লন্ডনে স্কুল অফ অরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিস এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মুস্তফা শাহ বলেন, কোরআনের লেখার ধরণ ও ব্যকরণের আঙ্গিক দেখে মনে হয় এটি আরো পরের।

বার্মিংহামে কোরআনের মাত্র দুইটি পৃষ্ঠা পাওয়া গেছে। পুরোটা মিলে হয়তো ২০০ পৃষ্ঠা হবে। অধ্যাপক থমাস বলেন, যদি পুরো কোরআন একসঙ্গে পাওয়া যায় তবে সেটা সত্যিই দারুণ হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক শিক্ষা ফাউন্ডেশন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল বিন হুয়ারিব বলেন, এই কোরআন ‍মুসলিমদের আদিতম নিদর্শনের একটি।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য এটি অন্যতম বড় আবিস্কার। আমার মনে হয় এই কোরআনটি আবু বকরের খিলাফতের সময় লিখিত।’ এই কোরআন ইসলাম শিক্ষায় বিপ্লব আনবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি