মেইন ম্যেনু

বার্সেলোনা-জুভেন্টাসের ট্রেবল জয়ের লড়াই

ট্রেবল, ট্রেবল, ট্রেবল। বার্সেলোনা-জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের আগে এই একটি শব্দই সবার মুখে মুখে ফিরছে। দুই দলই ঘরোয়া লিগ ও কাপ জিতেছে। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে যে দল জিতবে তারাই ট্রেবল জয়ের উৎসবে মাতবে।

আর এই ট্রেবল জয়ের লড়াইয়ে আজ (শনিবার) দিবাগত রাতে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায়।

ঘরোয়া লিগ, কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ (আগে নাম ছিল ইউরোপিয়ান কাপ), কোনো দল একই মৌসুমে তিনটি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতলে সেটাকে ট্রেবল বলা হয়। এ পর্যন্ত সাতটি দল এই কীর্তি গড়েছে। তবে এবার বার্সার সামনে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেবল জয়ের সুযোগ। এর আগে ২০০৯ সালে পেপ গার্দিওলার অধীনে প্রথমবার ট্রেবল জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। অপরদিকে জুভেন্টাসের সামনে প্রথমবারের মতো ট্রেবল জয়ের হাতছানি।

এ মৌসুমটা দারুণ কেটেছে বার্সার। লা লিগায় শেষ ১৪ ম্যাচে অপরাজিত থেকে শিরোপা ঘরে তোলে লুইস এনরিকের দল। আর কিংস কাপ নামে পরিচিত কোপা দেল রে-তে তো আট ম্যাচের আটটিই জিতে শিরোপা উৎসব করে কাতালানরা। দারুণ ছন্দে রয়েছেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের ত্রয়ী লিওনেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ। এ মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে ১২০ গোল করেছেন এই তিনজন। যা এক মৌসুমে স্প্যানিশ কোনো দলের আক্রমণভাগের ত্রয়ীর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

বার্সা ত্রয়ীর মধ্যে অবশ্য সবচেয়ে সেরা ফর্মে রয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা মেসি। বার্সা ত্রয়ীর ১২০ গোলের মধ্যে মেসি একাই করেছেন ৫৮ গোল। এ ছাড়া ২৭টি গোল সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন চারবারের ফিফা বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়। কোপা দেল রের ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে তো জাদুকরি এক গোল করে সবার চোখ ধাঁধিয়ে দেন ফুটবলের খুদে জাদুকর নামে পরিচিত মেসি। তার সঙ্গে ব্রাজিল তারকা নেইমার ও উরুগুয়ের তারকা সুয়ারেজও কম যাচ্ছেন না। এই তিনজন একসঙ্গে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের যে কী হাল হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ রাতে বার্লিনের ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষেও ‘বিধ্বংসী’ হয়ে উঠতে পারেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের সর্বকালের সেরা ত্রয়ী মনে করা মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ।

গার্দিওলা বার্সার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই দলকে ট্রেবল জিতিয়েছিলেন। এবার এমন সুযোগ বার্সার বর্তমান কোচ লুইস এনরিকের সামনেও। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এনরিকে বললেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অর্থ আমাদের ট্রেবল জয় এবং এটার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই ঘটনা (ট্রেবল) বার্সেলোনার ইতিহাসে একবার ঘটেছে। এটা অর্জন করা যে কতটা কঠিন তা আপনারা সবাই জানেন। আমি অবশ্য সবকিছু নিয়েই ভাবছি। জুভেন্টাস দারুণ একটা দল। ওদের অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছে। বিশেষ করে আন্দ্রে পিরলো। ওদের ডিফেন্ডাররাও বেশ দারুণ।’

এ মৌসুমে বার্সার চেয়ে কোনো অংশেই কম যায়নি জুভেন্টাস। ১৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে লিগ শিরোপা ঘরে তোলে তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’ নামে পরিচিত দলটি। লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন আক্রমণভাগের সেরা তারকা কার্লোস তেভেজ। লিগে ২০ গোল করেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। দারুণ ছন্দে রয়েছেন আলভারো মোরাতা। সেমিফাইনালের দুই লিগে এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোলেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। তেভেজ-মোরাতা ছাড়াও পগবা, ভিদালরা বেশ ভালো করেছেন। আর দলের গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের কথা তো বলতেই হয়। ৩৭ বছর বয়সেও জুভেন্টাসের গোলপোস্টের অদম্য প্রহরী হিসেবে পারফর্ম করে চলেছেন ইতালির বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক। জুভেন্টাসের রক্ষণ আর বুফনের দেয়াল ভাঙাটা বার্সার আক্রমণভাগের ত্রয়ীর জন্য যে মোটেই সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস, দুই দলেরই এটা অষ্টম ফাইনাল। তবে সফলতার দিক থেকে জুভেন্টাসের চেয়ে বহু এগিয়ে বার্সা। সাত ফাইনালের মধ্যে বার্সা চারবার শিরোপা জিতেছে। আর জুভেন্টাস জিতেছে দুবার। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে জুভেন্টাস শেষবার শিরোপা জিতেছে ১৯৯৬ সালে, রোমের ফাইনালে আয়াক্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। আর বার্সার সবশেষ শিরোপাটি এসেছে ২০১১ সালে, লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে। গত ১০ মৌসুমের মধ্যে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তোলার সুযোগ বার্সার সামনে।

ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় এবার নিয়ে সপ্তমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা-জুভেন্টাস। শেষবার ২০০২-০৩ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেবার দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল জুভেন্টাস। ফলে এবার বার্সার সামনে প্রতিশোধেরও সুযোগ। যদিও ফাইনালের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের কোনো তুলনাই চলে না!

ফাইনালে বার্সার জন্য আরেকটি বড় বিষয়, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে বার্সার জার্সিতে ১৭ বছরের ক্যারিয়ার শেষ করতে চলেছেন জাভি হার্নান্দেজ। আজ রাতে জুভেন্টাসকে হারাতে পারলে বার্সার হয়ে রেকর্ড ২৫টি শিরোপা জিতবেন জাভি। বার্সার এই জীবন্ত কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচটি তাই শিরোপা উৎসব করেই স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা। আর এমনটা হলে প্রথম দল হিসেবে দুবার ট্রেবল জয়ের অনন্য ইতিহাস গড়বে বার্সা। ইতিহাসটা গড়তে পারবেন তো মেসি-নেইমার-সুয়ারেজরা? জবাব পেতে আরো কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা!



« (পূর্বের সংবাদ)