মেইন ম্যেনু

বার ড্যান্সারের ফোন, ‘আমি মরতে যাচ্ছি’

মধ্যরাতে ফোনটা বেজে উঠতেই ধরলেন থানার ডিউটি অফিসার৷ এক নারীর মাদকাসক্ত গলা, ‌‘আমি মরতে যাচ্ছি’৷

বুধবার রাতে এমন ফোনে চমকে উঠেছিলেন ওই অফিসার৷ নিজেকে শেষ করে ফেলার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত৷ তাও পুলিশকে জানিয়ে৷ জানিয়েছে ইন্দো ইন্ডিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ঢিলেমি না দেখিয়ে পুলিশ ছুটলো ফোনে জানানো সেই ঠিকানায়৷ বন্ধ দরজা৷ কোনো সাড়াশব্দ নেই৷ শেষে ভেতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই দেখা গেল গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন এক যুবতী৷

তিনি পেশায় বার ড্যান্সার৷ প্রাথমিক পরীক্ষায় অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার বুঝলেন, সব শেষ৷ এবারো ঘটনাস্থল সেই বাগুইআটি এলাকা৷ যত কাণ্ড সেই ভিআইপি রোডের লাগোয়া এলাকায়৷

ওই বার ড্যান্সারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিমানবন্দরের অদূরে তেঘরিয়ায়৷ নিজের ঘরে তার ঝুলন্ত দেহ মিললেও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ খুনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না৷

এখানকার শীতলাতলায় একটি ভাড়াবাড়িতে আর এক ড্যান্সার যুবতীর সঙ্গে থাকতেন বছর পঁচিশের মামণি গায়েন৷ রাত সাড়ে বারোটার দিকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়৷

বাড়িতে মিলেছে বেশকিছু মদের বোতল৷ কোনোটা খালি, কোনোটা ভরা৷

একটি বোতলে আবার কিছুটা মদ ছিল৷ এর থেকে পুলিশের ধারণা, রাতে সেখানে এক বা একাধিক লোক হয়তো ছিল৷

প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, নিত্যনতুন মুখের আনাগোনা লেগেই থাকত ওই বাড়িতে৷ তবে গতকাল রাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি তারা৷

রাতে পানশালায় নাচ ও গানের অনুষ্ঠান সেরে ফিরতেন মামণি৷ তাকে নামিয়ে দিয়ে যেত গাড়ি৷ কোনোদিন সঙ্গে থাকতেন আরো এক যুবতী৷

কখনো একাই ফিরতেন৷ পৃথকভাবে ফিরতেন তার রুমমেট৷ তবে এদিন সেই রুমমেট বার থেকে নাচের অনুষ্ঠান সেরে ফেরার আগেই ঘটনাটি ঘটে যায়৷

পুলিশ এখন সংশ্লিষ্ট বারের মালিক ও মামণির সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছে কাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল৷

পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই যুবতীর৷ সেই সম্পর্কে ইদানীং চিড় ধরেছিল৷ তাই হতাশা চেপে বসেছিল তার৷ তবে ওই যুবকের ঠিকানা এখনো পাননি তদন্তকারীরা৷

বাগুইআটি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত একের পর এক পানশালা ঘিরে রোজ যেন ঘটনার ঘনঘটা৷ কখনও ভাঙচুর, কখনও গুলি, কোনোদিন আবার বার ড্যান্সার খুন৷

এলাকার পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে রাতের বাইক বাহিনীর দাপটে৷ হাজার চেষ্টাতেও যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না৷

পানশালাগুলো্ ঘিরে যে চক্র গড়ে উঠেছে তা নিয়েও কপালে ভাঁজ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের৷ কয়েকদিন আগেই একটি পানশালার মালিককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে নারী পাচারচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে৷

জানা গেছে, একাধিক পানশালার মালিক এ ব্যক্তি নাচ-গানে যুক্ত যুবতীদের বাড়তি পয়সার লোভ দেখিয়ে মুম্বাই, এমনকী দুবাইতেও পাচার করতেন৷

তাকে জেরা করে অনেক তথ্য মিলেছে৷ চলছে আরো অভিযান চালানোর উদ্যোগ৷ এরই মধ্যে মামণির মৃত্যু অন্ধকার জগৎকে যেন আরো রহস্যবৃত করে তুলল৷

মামণির আসল নাম-ধাম খুঁজতে নামে পুলিশ৷ জানা যায়, এখানকারই যাত্রাগাছি এলাকায় আদি বাড়ি তার৷ এবার এটি আত্মহত্যা না খুন সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ৷

তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দেখেছে, তার দেহে বেশকিছু আঘাতের চিহ্ন৷ ঘরে খাটের উপরে খাবারের কিছু টুকরো ছড়ানো৷

পানির বোতল, গ্লাস এবং কিছু জিনিস পুলিশ পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছে। কিন্তু ঘর ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং রাতে থানায় ফোন এসেছিল বলেই পুলিশ আত্মহত্যার তথ্যে জোর দিচ্ছে৷