মেইন ম্যেনু

বালিয়াকান্দির দু,টি স্কুল পানির নিচে থাকায় ছুটি ঘোষনা ॥ শিক্ষার্থীরা বিপাকে

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের চাপড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নতুন ঘুরঘুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ১ মাস যাবৎ পানিতে নিমজ্জিত। শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সোমবার থেকে ৪ দিনের ছুটি দিয়েছে নতুন ঘুরঘুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চাপড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, চাপড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে এলাকার শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে প্রতিষ্টা করা হয়। এখন স্কুলে শিক্ষার্থী প্রায় ৩শত। শিক্ষক-কর্মচারী ১২জন। স্কুলটিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই, চেয়ার , বেঞ্চ সংকট, ল্যাট্রিন, টিউবয়েল নেই। খেলার মাঠে প্রায় ১ মাস ধরে হাটু পানি রয়েছে। কেউ কেউ নৌকায় চড়ে আবার কেউ কাপড় উচিয়ে স্কুলে আসে। অনেক সময় পানি পেড়িয়ে আসতে গিয়ে পড়ে কাপড় ও বই নষ্ট হয়ে যায়। এতে দিন দিন স্কুল টিতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমছে।

শিক্ষার্থী বাধন, কৃষ্ণ, নারায়ন, দেবব্রত, শাওন, অসীম, বীথি, দিতি, মুক্তি, কামনা জানায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই স্কুল মাঠে পানি জমে যায়। ৩-৪ মাস ধরে পানি থাকার কারণে ও শ্রেণী কক্ষ, বেঞ্চ, ল্যাট্রিন, টিউবয়েলসহ নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের নিকট স্কুলটিতে সুষ্টু ভাবে পড়ালেখার পরিবেশ সৃষ্টির আবেদন জানায়।

চামড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, স্কুলটিতে নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রায় ৩-৪ মাস পানি জমে থাকায় কখনো বাশের সাকো আবার কখনো নৌকা দিয়ে পাড়াপাড় হতে হয়। এ বছর নৌকাও নেই আবার বাশের সাকোও দেওয়া হয়নি। ফলে কাপড় হাটু পর্যন্ত উচিয়ে স্কুলে ঠুকতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হয়েছে।

নতুন ঘুরঘুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ভুলেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৪জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চললেও এখনও জাতীয়করন হয়নি। প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলে ভালো ঘর নেই, টিউবয়েল ও ল্যাট্রিনও নেই। প্রায় ১ মাস যাবৎ স্কুল মাঠ ও ঘরের মধ্যে পানি রয়েছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস করা হয়েছে। এখন ক্লাস নেওয়ার মতো অবস্থা না থাকায় সোমবার থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বুলেন্দ্রনাথ বালা জানান, স্কুলটিতে ক্লাস নেওয়ার মতো পরিবেশ না থাকার কারণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। তবে স্কুলটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, দুটি স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।