মেইন ম্যেনু

বাসের ভাড়া নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড!

রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটের সব বাসের ভাড়া হঠাৎ দ্বিগুণ-তিনগুণ আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আজ বুধবার দুপুরের পর থেকে শুরু হয়েছে এমন তুঘলকি কাণ্ড। লোকাল বাসগুলো বনে গেছে সিটিং বাসে। এতে বাসে উঠতে না পেরে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হঠাৎ দ্বিগুণ ভাড়া আদায় মেনে নেওয়া যায় না। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শাহবাগে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবেদকের কথা হয় ঢাকা পরিবহন, দিশারি পরিবহন, সেফটি, ইটিসি, ইউনাইটেড, নিউ ভিশন, শিখর, শেকড়, বিহঙ্গ, বিকল্প পরিবহনের যাত্রীদের সঙ্গে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কেবল স্বাভাবিক ভাড়া আদায় করছে গাবতলী থেকে আসা ৭ ও ৮ নম্বর বাসগুলো।

ঢাকা পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা; দিশারি, সেফটি, নিউ ভিশন, শিখর, ইউনাইটেড ও বিকল্প পরিবহন ২২ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা; আর ইটিসি ২২ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা আদায় করছে।

দিশারী পরিবহনের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঈদির সময় বেশি নিত পারে, কিন্তু এত বেশি কেমনে হয়? ভাড়া কম দিতি গেছি—কয় সিটিং করেছি টাকা বেশি লাগবো।’ রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ছেড়ে আসা ইটিসি পরিবহনের যাত্রী আবদুল জব্বার বলেন, ‘২২ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা নিছে। হঠাৎ করে মনে হয়—দেশটা মগের মুল্লুক হয়ে গেছে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী  বলেন, ‘কোনো পরিবহন যদি এভাবে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করে, তাহলে যাত্রীদের অনুরোধ করব নিকটস্থ ট্রাফিক পুলিশকে জানান।’

এদিকে এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহন (৩ নম্বর)সহ কিছু লোকাল বাস হঠাৎ করে সিটিং করায় ঢাকার অভ্যন্তরের যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। বিশেষ করে নারী যাত্রীরা। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা মনোয়ারা বেগম নামে একজন যাত্রীর ভাষ্য, ‘বুঝতিছি না এত কম বাস কেন। দেখেন সবগুলো বাসের দরজা আটকানো।’ আলী হোসেন নামের আরেক জন যাত্রী বলেন, ‘এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, কোনো বাসই পাইতেছি না।’ প্রথম আলো