মেইন ম্যেনু

বাসের ভিতরে বিচার ! বিচারকের বিচক্ষনতায় রক্ষা পেল অপহৃত এক কিশোরী

এক সহকারী জজের তাৎক্ষণিক বুদ্ধির কারণে চাঁদপুরের এক তরুণী অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ও তার কথিত প্রেমিকবেশী অপহরণকারী ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

সূত্র জানায়, বাবার গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখার জন্য জরুরিভিত্তিতে রোববার (৩১ মে) রাত আড়াইটার দিকে চাঁদপুরের সহকারী জজ হোসেন মো. রোজা চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামগামী নৈশ কোচে (সৌদিয়া) ওঠেন। বাসে উঠার সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন, বাসের নিচে এক কিশোরীকে ঘিরে ৭/৮ জন কিশোর-যুবক কী যেন শলাপরামর্শ করছে।

বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখলেও তিনি কিছু না বলে বাসে উঠে নিজের আসনে বসে পড়েন। কয়েক মিনিট পর তিনি দেখতে পান, ওই কিশোরীকে নিয়ে এক যুবক তারই পেছনের আসনে বসেছে। ততক্ষণে বাস চাঁদপুর শহর ছেড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে।

চলন্ত অবস্থায় তিনি বাসের সহকারীকে ডেকে নিজের পরিচয় দিয়ে ওই যুগল সম্পর্কে জানার জন্য অনুরোধ জানান। প্রতি উত্তরে তারা জানায়, তারা ভাই-বোন। তাদের উত্তর সন্তোষজনক নয় মনে করে তিনি সন্দেহের ভিত্তিতে চলন্ত বাস থেকেই চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। কিন্তু বাসটি ততক্ষণে চাঁদপুর সদর থানা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় ওই থানার ওসি বিষয়টি হাজীগঞ্জ থানাকে জানাতে পরামর্শ দেয়।

তিনি হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলমকে বিষয়টি জানান। রাত পৌনে চারটার দিকে বাসটি হাজীগঞ্জ বাজারে পৌঁছলে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হাজীগঞ্জ থানায় নেওয়ার পর বিভিন্ন থানায় বেতার বার্তা পাঠানোর প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ছেলেটির নাম আ. আজিজ বেপারী ও মেয়েটির নাম তামান্না আক্তার পুস্প। তাদের দু’জনেরই বাড়ি ফরিদগঞ্জ থানার চরবসন্ত গ্রামে। ছেলেটির বয়স ১৯ থেকে ২০ বছর এবং মেয়েটির বয়স ১৪। তারা দু’জন রোববার’ই বাড়ি থেকে পালিয়েছে।

এ ব্যাপারে মেয়ের বড় ভাই রোববার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ছেলেটি ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। পরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার সকালে ছেলে ও মেয়েকে থানায় নিয়ে আসে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. জসিম জানায়, মঙ্গলবার (২ জুন) তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

সে আরো জানায়, মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণীতে ও ছেলেটি একটি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়া করে।