মেইন ম্যেনু

বাসে মৃত্যু রোগিসহ পরিবারকে জঙ্গলে নামিয়ে দিল যাত্রীরা

ভারতে আবারো হেরে গেল মানবিকতা! দেশটির ওড়িশার কালাহান্ডিতে টাকার অভাবে স্ত্রীর লাশ কাঁধে নিয়ে ১২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া এবং বালেশ্বরে লাশের হাত-পা ভেঙ্গে বাঁশ ঝুলিয়ে থানায় পাঠানোর ঘটনার পর এবার মধ্যপ্রদেশের দমোহে মৃত স্ত্রী-র দেহ আগলে বেশ কয়েকঘণ্টা জঙ্গলে কাটালেন ছত্তরপুরের ঘোঘরা গ্রামের বাসিন্দা রামসিং লোধি।

জানা গেছে, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন রামসিং। দমোহ-র ওই হাসপাতালেই পাঁচদিন আগেই এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী। ফলে সদ্যোজাত কন্যাও ছিল সঙ্গে। কিন্তু, পথেই ঘটল বিপত্তি।

গত বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী। তাঁকে নিয়ে বাসে করে দমহ-র হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন রামসিং। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় স্ত্রীর। তা দেখে আপত্তি জানান বাসের অন্য যাত্রীরা। ফলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। বাসটি সেই সময়, একটি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। অথৈ জলে পড়ে যান রামসিং। অগত্যা জঙ্গলের মধ্যেই মৃত স্ত্রীর দেহের পাশে বসে পড়েন সে। সঙ্গে সদ্যোজাত কন্যা। চামচ দিয়ে সদ্যোজাতকে খাওয়াতে থাকেন তিনি। তাঁর আশা ছিল, রাস্তায় কোনও গাড়ি দেখলে চালককে অনুরোধ করবেন তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে। কিন্তু, এভাবে প্রায় একটা দিন কেটে গেলেও এগিয়ে আসেননি কেউই। এরই মধ্যে ওই রাস্তা দিয়ে শতাধিক লোকের আনাগোনা হয়েছে। তবে অসহায় রামসিংকে দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউই।

অবশেষ মৃত্যুঞ্জয় হাজারি ও রাজেশ প্যাটেল নামে দুই আইনজীবী রামসিংয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। পুলিশকে বিষয়টি জানান তাঁরাই।
পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে ঠিকই। তবে শুধু নাম ঠিকানা লিখেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে বলে অভিযোগ। তাই মৃত্যুঞ্জয় হাজারি ও রাজেশ প্যাটেলকেই এগিয়ে আসতে হয়। তাঁরাই অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে রামসিংয়ের স্ত্রীর দেহ বাড়িতে পৌঁছে দেন। বিষয়টি মানবাধিকার আদালতে জানাবেন বলে জানিয়েছেন ওই দুই আইনজীবী।- এনাডু ইন্ডিয়া।