মেইন ম্যেনু

বাস্তবের ধুম-২! চলন্ত ট্রেনের ছাদ কেটে চেন্নাইয়ে চুরি ছ’কোটি টাকা

পুলিশ কর্তাদের ধারণা, স্টিল কাটার এবং ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করেই ট্রেনের ছাদ কাটা হয়। এরপরে বিরুধাছালাম স্টেশনে টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।

ঠিক যেন হৃতিক রোশন অভিনীত ‘ধুম-২’-এর স্ক্রিপ্ট। ওই ছবিতে চলন্ত ট্রেন থেকে হিরের মুকুট চুরি করতে দেখা গিয়েছিল বলিউড তারকাকে। আর বাস্তবের চোরেদের কীর্তি যেন ছবির চিত্রনাট্যকেও টেক্কা দিল। চলন্ত ট্রেনের ছাদ কেটে চুরি হয়ে গেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রায় ছ’কোটি টাকা।

তামিল নাড়ুর সালেম থেকে ট্রেনের একটি বগি বুক করে দাগ, রং লেগে বাতিল হওয়া এবং ছেড়া নোটের বান্ডিল নিয়ে যাচ্ছিল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সবমিলিয়ে ২২৬টি স্টিলের ট্রাংকের ভিতরে ৩৪২ কোটি টাকা মূল্যের বাতিল নোট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যার ওজন ছিল ২৩ টন।

চেন্নাই থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সালেমের পাঁচটি ব্যাংক থেকে ছেঁড়া এবং বাতিল নোট সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছিল রিজার্ভ ব্যাংক। বাতিল সব নোটই পুড়িয়ে ফেলার কথা ছিল। মঙ্গলবার সকালে সালেম এক্সপ্রেস এগমোর স্টেশনে পৌঁছনোর পরেই ঘটনাটি রিজার্ভ ব্যাংকের আধিকারিকদের নজরে আসে। দেখা যায়, দু’টি ট্রাংক খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর ট্রেনের ওই বগির ছাদের একটা অংশ চৌকো করে কাটা। হিসেব করে দেখা যায়, খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণ ৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। চোরেরা অবশ্য কম মূল্যের বেশ কিছু নোট ফেলে দিয়ে যায়। স্থানীয় রেল পুলিশ কর্তারাও স্বীকার করেছেন, চলন্ত ট্রেন থেকে এমন চুরির নজির এদেশে আর নেই। যদিও কীভাবে চুরি সম্ভব হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। কারণ টাকার বান্ডিল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেই ট্রেনটিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যদিও যে বগিতে টাকা ছিল, তার ভিতরে কেউ ছিল না।
পুলিশ কর্তাদের ধারণা, স্টিল কাটার এবং ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করেই ট্রেনের ছাদ কাটা হয়। এরপরে বিরুধাছালাম স্টেশনে টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। কারণ, রাত দেড়টা নাগাদ সেখানে কয়েক মিনিটের জন্য ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল। বিরুধাছালাম স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজেও কয়েকজনকে জোর করে ট্রেনের ছাদের ভেন্টিলেটর খোলার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। রাত ন’টা নাগাদ সালেম স্টেশন ছেড়েছিল এই ট্রেনটি। এগমোরে পৌঁছনোর কথা ছিল ভোর ৪.৪০ মিনিটে। মাঝে বিরুধাছালাম-সহ দশটি স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। বিরুধাছালামে ইঞ্জিন বদল হওয়ায় একটু বেশিক্ষণ দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। সম্ভবত বিরুধাছালামের আগের কোনও স্টেশন থেকেই চোরেরা ট্রেনে উঠেছিল। সেই সমস্ত স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।