মেইন ম্যেনু

বাস দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে গরমিল

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে পাল্লা দিতে গিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) এক ছাত্রীসহ তিনজন দগ্ধ এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা নিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে গরমিল দেখা গেছে। তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গাড়ির চালকের বরাত দিয়ে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটের যে ৮ নম্বর বাসটি (ঢাকা মেট্রো জ ১১-১৩৬৪) উল্টে গেছে, সেটি দুর্ঘটনার আগে ব্রেক ফেল করে। ওই বাসের চালক বাসটিকে রোড ডিভাইডারের উপর আটকাতে চাইলে পেছনের আরেকটি ৮ নম্বর বাস (ঢাকা মেট্রো জ ১৪-১৪৮০) আগের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। কিন্তু পেছনের বাসটির ধাক্কায় আগের বাসটি উল্টে যায়নি, ব্রেক ফেল হওয়ার কারণে রোড ডিভাইডারের ওপর তুলে চালক বাসটিকে থামাতে ব্যর্থ হলে বাসটি উল্টে যায়।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম বলেন, দুটি বাস পাল্লা দিয়ে চলছিল। এমন সময় সামনের বাসটি রোড ডিভাইডারে ধাক্কা খায়। তখন পেছনের বাসটি আগের বাসটিকে জোরে ধাক্কা দিলে তা উল্টে যায়।

কারওয়ানবাজারের আন্ডারপাসের কাছে সিএ ভবনের উল্টোদিকের রাস্তায় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, বাস দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। এখনো তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

বাসের ইঞ্জিন থেকে গরম পানি শরীরে পড়ে যারা দগ্ধ হন তারা হলেন- ঢামেকের ছাত্রী শিফা খানম মৌ (২৫) এবং পারুল আক্তার (৩০) ও তার ছেলে আসফাত (৪)। ছাত্রী মৌয়ের শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া পারুল আক্তারের হাত ও বুক এবং তার ছেলে আসফাতের পুরো শরীর দগ্ধ হয়েছে। আব্দুল আউয়াল বেপারী (৫০) ও মো. ইব্রাহিম নোমান (২৬) নামে আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দগ্ধ পারুল আক্তার বলেন, ‘আমি মিরপুর-১ এ থাকি। একটি গার্মেন্টসে চাকরি করি। ছুটির দিন হওয়ায় ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। পরে ৮ নম্বর বাসে করে বাসায় ফিরছিলাম। বাসে ওঠার পর অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম দুটি বাস প্রতিযোগিতা দিয়ে চলছে। পরে কারওয়ান বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে যায়।’

আহত আব্দুল আউয়াল জানান, শাহবাগ থেকে ৮ নম্বর বাসে উঠে মিরপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বাসচালক অপর একটি ৮ নম্বর বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চালাচ্ছিল।কারওয়ানবাজারে আন্ডারপাসের কাছাকাছি এসে বাসটি উল্টে যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা মেট্রো জ ১১-১৩৬৪ নম্বরের বাসটি উল্টে আছে। গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। পেছনেই ৮ নম্বর রুটের আরেকটি বাস (ঢাকা মেট্রো জ ১৪-১৪৮০)। সেটিও সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।