মেইন ম্যেনু

বাড়ি যেতে চাওয়ায় গৃহকর্মীকে নির্যাতন: গৃহকর্তা গ্রেপ্তার

এলাকার এক ব্যক্তি চাঁদপুরের নয় বছরের শিশুটিকে গাজীপুরে একজনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ দেয়। সেখানে যাওয়ার বছর খানেক পর শিশুটি গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর কাছে বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার আবদার করে। এই আবদারের ‘অপরাধে’ তাকে অমানবিক নির্যাতন করেন তারা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন নিয়ে শিশুটি এখন চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির প্রতিবেশী শাহজাহান ভূঁইয়া তিনজনের বিরুদ্ধে হাইমচর থানায় মামলা করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় গৃহকর্তা ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর পুলিশ।

শিশুটির পরিবার বলছে, পাঁচ সন্তান ও স্ত্রীকে ফেলে শিশুটির বাবা অন্যত্র চলে গেছেন। পরে মা ফিরোজা বেগম শিশুটিকে মানুষের বাসায় কাজে দেন। এক বছর আগে হাইমচরের মোস্তফা সরদার নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে গাজীপুরের জয়দেবপুরে ওমর ফারুক-মনি বেগম দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে যান। সম্প্রতি শিশুটি বাড়ি যাওয়ার জন্য গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রীর কাছে আবেদন করে। এ কারণে তারা শিশুটিকে প্রচ- মারধর করেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার খবর পেয়ে মোস্তফা সরদার শিশুটিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের ওই বাড়ি থেকে হাইমচরে নিয়ে আসেন। পরে শিশুটির অবস্থা দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং মোস্তফা সরদারকে পুলিশে দেয়।

চাঁদপুরের হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর জানান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির প্রতিবেশী হাইমচর এলাকার শাহজাহান ভূঁইয়া তিনজনকে আসামি করে শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাইমচর থানায় মামলা করেন।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে চাঁদপুর থানার পুলিশ গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় জয়দেবপুর থেকে গৃহকর্তা ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করে ।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার জানান, মোস্তফা সরদারকে নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় অভিযান চালায় চাঁদপুর পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওমরের স্ত্রী মনি বেগম পালিয়ে যান।