মেইন ম্যেনু

বায়ুদূষণে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি

দূষিত বায়ু আপনার শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতি করে মারাত্মকভাবে। এই ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবেও টের পাওয়া যায় হাঁচি কাশির মাধ্যমে। উচ্চমাত্রায় বায়ুদূষণ শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হাঁপানি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এই দূষণ মানুষের মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে থাকে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই মিলেছে।

অতিরিক্ত দূষিত বাতাসের কারণে মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ধ্বংস হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার ওপর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন ও বেথ ইসরায়েল ডেকোনেস মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা যৌথভাবে ৯০০ জনের ওপর একটি পরীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য আবিষ্কার করেছেন।

দীর্ঘক্ষণ বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্কের সামগ্রিক আকৃতি সংকুচিত হয়ে যায়। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিমিত রক্তসঞ্চালনের অভাবে কোষের মৃত্যু ঘটে। নিঃশব্দে ইসকেমিক স্ট্রোক হয়। এই গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা রাস্তার ধারে বেশিরভাগ সময় থাকেন বা বেশিরভাগ সময়টা রাস্তাতেই কাটিয়ে দেন তাদের মস্তিষ্কে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সর্বাধিক।

যানবাহন, কল-কারখানা, পাওয়ার প্লান্ট, কাঠ পোড়া, অটোমোবাইল কারখানাজাত ক্ষতিকর যে সমস্ত পার্টিকল বাতাসে মিশে মস্তিষ্কের ব্যাপক ক্ষতি করে। এই পার্টিকলগুলো মস্তিষ্ক থেকে ধীরে ধীরে ফুসফুস এবং হার্টে ছড়িয়ে পড়ে। রক্তসঞ্চালনে সমস্যা তৈরি করে। হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ষাট ও তদুর্দ্ধ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমনেশিয়া ও স্ট্রোকের কারণ হয় এই বায়ুদূষণ। তাই ধুলাময় রাস্তা বা কলকারখানার পাশে দূষিত বাতাসের ভেতর দিয়ে চলতে হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে এ ধরনের চলাচলের পথ এড়িয়ে যেতে হবে।