মেইন ম্যেনু

বায়োমেট্রিকের পরও মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে কারা?

বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম নিবন্ধনের পরও ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ হুমকি দেওয়া হয়েছে কথাসাহিত্যিক এবং শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং তার স্ত্রী প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হককে। এর আগে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতেও মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ আসছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মোবাইল ফোনে যে নম্বর থেকে হত্যার হুমকি দিয়ে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) এসেছিল সে নম্বরের মালিককে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এই ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না পুলিশ।

এরপর ওই একই নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয় লেখক মঈনুল আহসান সাবেরকেও। দুটি ঘটনার কোনও তথ্যই পুলিশ এখনও উদঘাটন করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘যারা এ ধরনের হুমকি পেয়েছেন তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি আরও বলেন, যে মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি এসেছে তা বায়োমেট্রিক ডাটাবেজে রক্ষিত ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে বের করা সম্ভব কে বা কারা এই কাজ করেছে।’

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন সক্রিয় সব মোবাইল ফোনের বায়োমেট্রিক তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষিত আছে।

তারানা হালিম জানান, সম্প্রতি মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় নিহত জঙ্গিদের পরিচয় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ (এনআইডি) থেকে উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। ডাটাবেজে আঙুলের ছাপ সংরক্ষিত থাকায় এই অগ্রগতি। এছাড়া বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম নিবন্ধন থাকায় সম্প্রতি এ ধরনের কিছু জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিটিআরসি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক ঘটনা কীভাবে হচ্ছে, কীভাবে ঘটছে সেসব নিয়ে কমিশন কাজ করছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সম্প্রতি জালিয়াত চক্র অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে (মোবাইলের মাধ্যমে) মানুষকে হয়রানি করছে। আমাদের কাছে এরই মধ্যে কিছু অভিযোগ এসেছে। কমিশন সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।’ এই বিষয়টা নিয়ে প্রচুর চাপে আছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

রামপুরা থানার এসআই এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। প্রচুর চাপে আছি। এখনও নম্বরটির প্রকৃত মালিক কে বা কোথায় থেকে পাঠানো হয়েছে তা জানা যায়নি।’

রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী শাহান হক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। হুমকি আসা নম্বরটির বিস্তারিত তথ্য বের করতে ডিবিতে পাঠানো হয়েছে। তারা নম্বরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের জানাবে।’

হুমকিদাতাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রলয় কুমার সাহা। তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। কিছুক্ষণ আগে এসেছি। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

এর আগে বুধবার (১২ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে আনু মুহাম্মদের মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে জিডি করার সময়ও একই মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি পেয়েছেন তিনি।

জিডি করা, ফেসবুক স্ট্যাটাস ও দ্বিতীয়বারের হুমকি প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘রামপুরা থানায় বসে জিডি করছিলাম। ওসি (তদন্ত) সাহেব সামনেই ছিলেন। এই সময়েই রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে একই নম্বর থেকে আরেকটি এসএমএস পেলাম। হুবহু: ‘ছে ইয়েস টু রামপাল, আদারওয়াইজ ইউ মাস্ট উইল বি হ্যাকড টু ডেথ ইনক্রিডিবলি বাই আস’।

একই স্ট্যাটাসে আনু মোহাম্মদ লেখেন, ‘যারা আতঙ্ক তৈরি করতে চায়, মানুষকে নীরব ও নিষ্ক্রিয় করতে চায়, যারা যুক্তিতে হেরে শক্তির পথ ধরে, তারা নৈতিকভাবে পরাজিত, তাদের সঠিক জবাব, সবাই মিলে আরও সরব হওয়া, আরও সক্রিয় হওয়া।’

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। কোনও অগ্রগতি থাকলে আপনাদের জানানো হবে।’ সিমটি নিবন্ধিত কিনা? নিবন্ধিত হলে ২৪ ঘণ্টা পরও কেন হুমকিদাতাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্ত করছি। কোনও ধরনের অগ্রগতি থাকলে তা জানানো হবে।’