মেইন ম্যেনু

বিএনপিকে নির্বাচন করতে দেবে না সরকার

‘মিথ্যা মামলায়’ অভিযুক্ত করে সরকার বিএনপির ‘জনপ্রিয় নেতাদের’ নির্বাচন করতে না দেয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

তারা বলছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তারা। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপির এক প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন বিএনপির নেতারা। হাইকোর্টে তারেক রহমানের সাজা হওয়ার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান; ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান; সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মুদ্রাপাচার মামলায় তারেক রহমানকে নিম্ন আদালত থেকে খালাস দেয়া হয়। কারণ, এ মামলার মধ্যে কোনোকিছু নেই। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দুদককে দিয়ে আপিল করানো হয়। এর মাধ্যমে সরকার বিএনপিকে দুর্বল করতে চায়। কিন্তু শহীদ জিয়া প্রতিষ্ঠিত এ দলকে দুর্বল করা যাবে না। বিএনপি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত জনগণের দল।’

গণতন্ত্র না থাকার কারণে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে, এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে। অনির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে জঙ্গিবাদ থেকে জনদৃষ্টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতেই তারেক রহমানের সাজার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তারেক রহমানকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে, সেই মুদ্রাপাচার মামলার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। মামলার বাদী-সাক্ষী কেউই বলেননি যে, তারেক রহমান টাকা নিয়েছেন। তাহলে কিসের ভিত্তিতে তাকে সাজা দেয়া হলো? এই প্রশ্ন আজ দেশবাসীর।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সেজন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম করে, হত্যা করে, মিথ্যা মামলায় জেলে নিয়ে আজীবন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে চায় অনির্বাচিত এই সরকার।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন, তারেক রহমানের সাজা হওয়ার মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কারণ, জিয়া পরিবার শুধু বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানে সীমাবদ্ধ নয়। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে বিস্তৃত। দেশের ১৬ কোটি মানুষ জিয়া পরিবারের সদস্য। সুতরাং জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঐক্যের ডাকে যখন সবাই সাড়া দিচ্ছে, তখন তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হলো। জনগণকে ঘুমপাড়িয়ে আপনারা (সরকার) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন আর দেশবাসী চিনাবাদাম খাবো, সেটি ভাববেন না। দেশবাসী এখন অনেক সচেতন।’ বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর।

অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘চক্রান্ত শুরু হয়েছে মাত্র। অনির্বাচিত ও দুর্নীতিবাজ সরকার তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিএনপির জনপ্রিয় নেতাদের নির্বাচন করতে দেবে না। সেজন্য তাদের মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তারেক রহমানকে দিয়ে এটি শুরু হয়েছে। এরপর এক এক করে সবাইকে এই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হবে।’

এ সময় বিভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।