মেইন ম্যেনু

বিএনপির কাউন্সিল : প্রথম থেকে ষষ্ঠ

চার দফায় দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি কাউন্সিল করেছে। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হতে যাচ্ছে দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল।

১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। রাজধানী ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ নামের এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

দলটির দীর্ঘ পথ চলার ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংঘাত, বিক্ষোভ, জনপ্রিয়তা আর চড়াই-উতরাইয়ের পেড়িয়ে আজ বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তবে কয়েক দফায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা এই দলটির সাংগঠনিকভাবে শক্তি অর্জনের চেয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

উন্নয়ন-উৎপাদনের রাজনীতিকে মূল প্রতিপাদ্য ঘোষণা করে ১৯ দফা কর্মসূচির আলোকে প্রতিষ্ঠার পাঁচ মাসের মাথায় ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০০টি আসন লাভ করে। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যদের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া এই দলের হাল ধরেন।

নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের মাধ্যমে ৯১-তে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন তিনি।

১/১১-এর রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপিকে প্রচ- প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় দলটির প্রধান খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে। পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেওয়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির ভরাডুবি হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংগঠনিকভাবে আরো নাজুক অবস্থা তৈরি হয়। যে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দুই দফায় আন্দোলনের ডাক দিয়ে ব্যর্থ হয় বিএনপি।

বারবার ভাঙনের মুখে
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দফায় দফায় ভাঙনের মুখে পড়ে বিএনপি। প্রথমে হুদা-মতিন, দ্বিতীয়বার শাহ আজিজ, তৃতীয়বার কে এম ওবায়দুর রহমান, চতুর্থবার অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, পঞ্চমবার কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং ষষ্ঠবার আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ভাঙনের মুখে পড়ে দলটি।

বিএনপির ৫ কাউন্সিল
কাউন্সিলের ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামের এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। ডা. বদরুদ্দেজা চৌধুরী হন প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব।

দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি আব্দুস সাত্তার চেয়ারম্যান এবং ডা. বদরুদ্দেজা চৌধুরী মহাসচিব হন।

আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। সেই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন এবং সালাম তালুকদার হন মহাসচিব।

১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে। সেই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন এবং আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া মহাসচিব হন।

সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম কাউন্সিলে খালেদা জিয়া চেয়ারপরসন এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন হন বিএনপির মহাসচিব।

তিন বছর মেয়াদি কমিটির সময় আড়াই বছর আগেই শেষ হয়েছে। এর আগে দুই দফা কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ছয় বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ষষ্ঠ কাউন্সিল। এই কাউন্সিলেও আগেই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার ছেলে তারেক রহমানও একইবভাবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত করা হবে।