মেইন ম্যেনু

বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ : ক্ষমতার বাইরে ১০ বছর

দেশের অন্যতম বিরোধী শক্তি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (বৃহস্পতিবার)। ১৯৭৮ সালের এ দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেও বর্তমানে চরম দুঃসময় পার করছে দলটি। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর আর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়নি বিএনপি।

দুই দফায় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা। দল গুছিয়ে আবারো আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়াই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন নীতিনির্ধারকরা। কারণ সংগঠন গোছাতে নতুন কমিটি গঠনের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তাও শেষ হয়েছে গত মাসেই।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছরের মতো এবারো সাদামাটাভাবেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করেছে দলটি। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মাত্র একদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সব নেতাকর্মী শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।

এছাড়া বিএনপির উদ্যোগে দুপুর ২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন। দিবসটি উপলক্ষে খালেদা জিয়া বাণীও দিয়েছেন।

টানা ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল। এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দলটি প্রথম দফায় বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে। অবশ্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি সরকারি বা বিরোধী কোনো স্থানেই নেই। যদিও রাজনীতিতে বিএনপি রাজপথের বিরোধী দল হিসেবে এখন পরিচিতি পাচ্ছে।

অবশ্য বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগও এর আগে টানা প্রায় ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে দাবিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে তিন মাস টানা আন্দোলনে ‘ব্যর্থ’ হয়ে ‘আপাতত’ সেই আন্দোলন থেকে দূরে রয়েছে দলটি। তবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দল গুছিয়ে আবারো আন্দোলন নামবে তার দল।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন জিয়াউর রহমান। জিয়া সামরিক শাসক থাকা অবস্থায় প্রথমে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।

এর আগেই ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি হন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার কিছু সময়ের জন্য সরকার ও দলের হাল ধরেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

এরপর থেকে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত টানা ৮ বছর ১১ মাস ২৪ দিন ক্ষমতার বাইরে ছিল বিএনপি। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতা হারালেও পরের সংসদ নির্বাচনে ২০০১ সালে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় যায় দলটি। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। এরপর থেকে প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দলটি।

বিএনপির সৃষ্টি সম্পর্কে জিয়াউর রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ট সহযোগী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব অলি আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান সিদ্ধান্ত নিলেন একটা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। প্রত্যেক স্তরের মানুষের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়ের পরে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্য জাতীয়তাবাদী একটি শক্তির উত্থান হওয়া প্রয়োজন। সে লক্ষে তিনি প্রথমে জাগদল পরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১৪`শ খাল কেটেছি। তেমনি জিয়াউর রহমান যখন গণশিক্ষার বিপ্লব ঘটালেন তখন গ্রামেগঞ্জে চলে গেলেন। তারপর শ্রমিকদেরকে নিয়ে নামলেন। তারপর তিনি কী করলেন তখন তিন শিফট করে মিল ফ্যাক্টরি চালু করলেন। এর ফলে শ্রমিকদের আয় উপার্জন বাড়লো। তিনটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে গেলাম।

বিএনপির একটা দুঃসময় যাচ্ছে উল্লেখ করে সাবেক সেনা প্রধান ও বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, এমন একটা পরিস্থিতি যাতে কোণঠাসা করা হয়েছে। দরের নেতাকর্মীদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে। বিএনপি জিয়াউর রহমানের সৃষ্ট দল, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার দল। এটা তো কখনো ওইভাবে নিঃশ্বেষ হতে পারে না। তাদের (নেতাকর্মীদের) মনের সিংহাসনে বিএনপি অধিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এখন সময়ের ব্যাপার। সামনের দিনগুলোতে আপনারা দেখবেন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিএনপি অনেক ভূমিকা নিতে পারবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে তারা অভিষ্ট লক্ষে নিয়ে যাবে।