মেইন ম্যেনু

পেকুয়ায় বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ভোট গ্রহন সম্পন্ন

বিএনপি-৩, আ.লীগ- ২, স্বতন্ত্র-২ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ০৭ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু সংঘর্ষ গোলা-গুলির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচন শেষ হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি-৩, আ.লীগ- ২, স্বতন্ত্র-২জন চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। তারা হলেন সদরে বিএনপির বাহাদুর শাহ, শীলখালীতে বিএনপির নুরুল হোছাইন, মগনামায় বিএনপির প্রার্থী শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম, টইটংয়ে আওয়ামীলীগের জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, উজানটিয়ায় আওয়ামীলীগের শহিদুল ইসলাম, রাজাখালীতে স্বতন্ত্র সৈয়দ নুর ও বারবাকিয়ায় স্বতন্ত্র (জামায়াত) মৌলানা বদিউল আলল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিছিন্ন কিছু ঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ ৭জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে সদর ইউনিয়নে। ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সদর ইউপির ৫নং পেকুয়া জিএমসি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের ব্যাপক পিঠুনীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, তার ভাই আবুল হাশেম টুনু ও মো: এরফান, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক আবুল শামা শামীম ও বিএনপি নেতা হেনাউল ইসলাম বাবুল গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে আ’লীগ নেতা আবুল কাশেমের ভাই মো: ইকবাল ও আ’লীগ কর্মী আবুল শামা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদেরকে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করালে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে চমেকে প্রেরন করে। তাছাড়াও আবুল শামা শামীম গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার হাসপাতালে ও আ’লীগ সম্পাদক আবুল কাশেমকে আহত অবস্থায় থানায় আটকিয়ে রাখা হয়। ওই সময় আ’লীগ সম্পাদক আবুল কাশেম ও আবুল শামা শামীমের উপর পুলিশ ও র‌্যাবের ব্যাপক পিঠুনীর চিত্র ধারণ করতে গিয়ে সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি সুজাউদ্দিন রুবেলও গুরুতর আহত হয়।

এছাড়াও সদরের ৭নং উত্তর মেহেরনামা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হলেও উল্টো উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রে থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসে এবং গুলি বর্ষন করে নৌকার সমর্থকদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। ৩নং মইয়াদিয়া সাইক্লোন সেন্টার কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যালট ছিনতায় করার সময় পুলিশের সাথে বিএনপির গুলিবিনিময় হয়। ওই সময় উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ রুবেলকে আটক করে পুলিশ। এছাড়াও ২নং পূর্ব গোয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ১জনকে আটক করে।

সরোজমিন উপজেলার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ব্যাটালিয়ান মোতায়ান করা হয়েছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে তারা সর্তক অবস্থায় ছিল। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন প্রশাসনের সব কর্মকর্তারা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আওয়ামী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, গুলিবর্ষন ও লাঠিসার্জ করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। বিএনপি নেতাদের কাজ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা এ কাজ করেছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবী আইন শৃংখলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স দেখানো হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম জানান, বিএনপির পক্ষে গিয়ে প্রশাসন নীল নকশার নির্বাচন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। এরই ধারাবাকিতায় প্রশাসন আমি ও আমার ভাইসহ দলীয় নেতাকর্মীদের গুলি ও হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি প্রশাসনের উর্ধŸতম কর্তৃপক্ষের কাছে দোষী কর্মকর্তা ও কন্সেটেবলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানাচ্ছি।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদর ইউপিতে সংঘর্ষে তাদের নেতাকর্মীরা জড়িত নয়। অহেতুক আ’লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির ত্যাগি নেতা বাবুলসহ আরো কয়েকজনকে আহত করেছে।