মেইন ম্যেনু

বিক্ষোভের মুখে প্রাণ কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ

নাটোরে বেতন ও ওভার টাইমের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবিতে প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের শ্রমিকেরা প্রধান কারখানায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে নাটোরের প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুরের আশঙ্কায় একই মালিকানাধীন নাটোর এগ্রো লিমিটেডের সব কারখানাও সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত নয়টা থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা পর্যন্ত ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় কারখানার কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ উঠেছে। কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রাণ এগ্রো লিমিটেড কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক ও সদর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে শ্রমিকদের গত মাসের চেয়ে ১০ শতাংশ কম বেতন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দিনের পালার শ্রমিকেরা কারখানা ত্যাগ না করে জড় হতে থাকেন।

রাত নয়টায় রাতের পালার শ্রমিকেরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর তাঁরা সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কারখানার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় শ্রমিকেরা প্রাণের টেস্টিং ল্যাব, মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন ইউনিটের দরজা, জানালা, কম্পিউটার, প্রধান ফটকে থাকা এটিএম বুথ ভাঙচুর করেন।

রাত ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা ওই ভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। আজ সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হলেও সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সকাল সাতটার দিকে সকালের পালায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক ও কিছু বহিরাগত একডালার প্রধান কারখানায় ঢুকে প্রশাসনিক ভবন ও কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন আগের দুই পালার প্রায় সাত হাজার শ্রমিক। এ সময় কর্মকর্তারা শ্রমিকদের থামানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা অন্তত পাঁচ কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সুযোগে কিছু শ্রমিক কারখানার উৎপাদিত মালামাল বাইরে সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও প্রাণহানির আশঙ্কায় তারা নিষ্ক্রিয় ছিল।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারখানার সব ইউনিট বন্ধ ছিল। ভেতরে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন। কারখানার ভেতরে-বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর মোড়ক। কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন নাটোর-২ (সদর‍) আসনের সাংসদ শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সি শাহাবউদ্দিন ও র‍্যাব সদস্যরা।কারখানা এলাকার ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে প্রাণের বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক।

আন্দোলনরত এক শ্রমিক জানান, একজন শ্রমিক ১২ ঘণ্টা ডিউটি করলে ১১ ঘণ্টার টাকা দেওয়া হয়। তা ছাড়া আগে ওভারটাইম প্রতি ঘণ্টায় ১৯ টাকা থাকলেও তা কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। এসব কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।

আরেক শ্রমিক জানান, তাঁদের দাবি বেতন সাড়ে তিন হাজারের পরিবর্তে পাঁচ হাজার টাকা ও ওভারটাইমের টাকা ৬০ শতাংশ থেকে এক শ ভাগ বাড়াতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী (অপারেশন) সাজ্জাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা আদৌ কমানো হয়নি। কারিগরি ত্রুটির কারণে শ্রমিকদের সঙ্গে বেতন-ভাতা নিয়ে প্রশাসনের কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এই সুযোগে বহিরাগত কিছু লোক কারখানায় ঢুকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আজ দুপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আলোচনার সময় শ্রমিকদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা করা হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ বেশ কিছুসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।