মেইন ম্যেনু

বিখ্যাত চলচ্চিত্রের আলোচিত ভুল

মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়। ফলে মানুষের তৈরি চলচ্চিত্রেও যে বেশকিছু ভুল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে চলচ্চিত্র তৈরির সময় কোনো ভুল হলে তা শুটিয়ের সময় অথবা সম্পাদনার টেবিলে ঠিক করে নেওয়া হয়। এমনটাই ঘটে বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে।

এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিছু বিখ্যাত চলচ্চিত্রে এমন কতগুলো ভুল হয়েছে যা পরবর্তীতে আর ঠিকঠাক করা হয়নি। বরং নিজেদের খ্যাতির পাশপাশি সেই ভুলগুলোকেও বিখ্যাত করে তুলেছে এর নির্মাতারা। এই তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় হলিউডের সিনেমাও। আসুন জেনে নিন এমন কিছু হলিউডি সিনেমার নাম যেগুলো বিখ্যাত হলেও তাদের ভুলগুলো খুবই আলোচিত।

এক্স ম্যান টু

এক্স ম্যান টু চলচ্চিত্রটিকে এক দিকে ভুলের আখড়া বলা যেতে পারে। প্রচুর পরিমাণ ভুল ছিল ছবিটিতে। কখনো ফাইলের রং পাল্টে যাচ্ছে একই দৃশ্যে, কখনো ক্যামেরার এক মোচড়েই চেয়ারের গঠন যাচ্ছে বদলে।

তবে সবচাইতে বেশি কথা উঠেছিল যে ভুলটি নিয়ে এবং এখনো যে ভুলটি রয়েই গিয়েছে ছবিটিতে সেটা হচ্ছে এক্স ম্যানের প্রেসিডেন্টের ঘরে প্রবেশের দৃশ্যে ডেস্কের ওপরে থাকা বাইন্ডার থাকা আর না থাকার ভুল। প্রথমে দৃশ্যটিতে দেখা যায় যে প্রেসিডেন্টে অফিসের ডেস্কে কাগজ চাপা দেওয়ার যন্ত্র রয়েছে। এরপর মাঝখানে হঠাৎ সেটা উধাও। আর পরের দৃশ্যে ফের ফেরত আসে সেটা ডেস্কের উপরে।

ডাই অ্যানাদার ডে

জেমস বন্ড সিরিজের এই বিখ্যাত চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যে গোয়েন্দা ফ্রস্ট আর জিঙ্কসকে দেখা যায় বিমানের ভেতরে প্রচন্ড মারামারি করতে। মারামারির একটা পর্যায়ে ছুরি দিয়ে জিঙ্কসকে আঘাত করে। আরে জেমস বন্ড সেই আঘাত সহ্য করে জিঙ্কসের পেটে ঢুকিয়ে দেন কিছু হীরে। এরপরের ঘটনা?

কোনরকম দাগ ছাড়াই একেবারে ঠিক আগের মতন হয়ে যায় জিঙ্কসের পেট। এতটুকু আঁচড় কিংবা কোনরকম সেলাই চোখে পড়ে না। যেন কখনো কিছু হয়ইনি সেখানে।

স্পাইডারম্যান

যখন পিটার পার্কার নিজের জাল বোনার ক্ষমতা বুঝতে পারে এবং নিজের ঘরে বসে চেষ্টা করতে থাকে নতুন ক্ষমতাকে ব্যবহার করার, তখনই ঘটে যায় একটি দূর্ঘটনা। হঠাৎ করে পিটারের জাল দিয়ে টেনে আনা টেবিল ল্যাম্প ধাক্কা খায় দেয়ালে আর ভেঙে যায় সেটা।

ভাঙার শব্দে পিটারের ঘরে আসেন পিটারের খালা। জানতে চান কি হয়েছে। এতটুকু পর্যন্ত সবটা ঠিকই ছিল। কিন্তু সমস্যাটা হয়ে দাড়ায় আগের দৃশ্যে ভেঙে যাওয়া সেই ল্যাম্পটা নিয়ে। যেটা তখন একেবারে ঠিকঠাকভাবেই দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পিটারের পড়ার টেবিলে।

কমান্ডো

আর্নল্ড সোয়ার্জনেগারের এই চলচ্চিত্রটি দেখার পর যে কেউ তাকে খুব ভালো অভিনেতা কিংবা রাজনীতিবিদের পাশাপাশি গাড়ির মেকানিক হিসেবে অভিহিত করলে অত্যুক্তি হবে না। বিখ্যাত এই ছবিটির একটি দৃশ্যে আর্নল্ডকে দেখা যায় একটি হলুদ পোর্শে নিয়ে এক জনকে তাড়া করতে। যেটার বাম পাশটা ছিল ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া। তবে এটা কেবলই একটি দৃশ্যেই দেখা যায়।

পরের দৃশ্যে যখন আবার সেই হলুদ পোর্শে ফিরে আসে তখন এর ভেতরে আর্নল্ড থাকলেও গাড়িটির বামপাশে কোনো দাগের চিহ্নই দেখা যায় না। যেন কখনো কোন আঘাতই লাগেনি সেখানে। আর লাগলেও সেটা আর্নল্ড চলতি পথেই সারিয়ে নিয়েছেন তার অলৌকিক ক্ষমাতায়!

পি এস আই লাভ ইউ

হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক চলচ্চিত্রটিও বাদ পড়েনি ভুল করা চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা থেকে। এর একটি দৃশ্যে দেখা যায় নিজের জামার সাসপেন্ডারের হুকের মাধ্যমে গ্যারি মুখে ব্যাথা পান। এর পরেই হুকটি দূরে ছুড়ে ফেলে দেন তিনি।

এর পর তিনি ব্যথায় কষ্ট পেয়ে চিৎকার করতে করতে বিছানার দিকে ছুটে যান গ্যারি তখন পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে হুপটি তখনো তার জামা-কাপড়েই আটকে রয়েছে। এর পরের দৃশ্যে অবশ্য সেটি হাওয়া হয়ে যায় আর তা আবারও ফিরে আসে পরের দৃশ্যটিতে।

টার্মিনেটর ৩- রাইজ অব দ্য মেশিনস

টার্মিনেটর সিরিজের সবগুলো ছবি দর্শকপ্রিয়তা পেলেও এর ভেতরে কিছু ছোটখাটো ভুল সবসময়েই থেকে গেছে। যেটি মাঝে মাঝেই হতাশ করেছে ভক্তদের। এই যেমন চলচ্চিত্রটির তিন নম্বর সিক্যুায়ালের একটি দৃশ্যে ক্যাথরিন ও অন্য এক জনকে দেখা যায় দৌঁড়ে একটি বিমানে উঠেতে। তখন বিমানটির নাম্বার লেখা থাকে এন ৩০৩ এসসি।

কিন্তু খানিকবাদেই আকাশেই যেন নতুন করে জন্ম হয় প্লেনটির আর নম্বর বদলে গিয়ে দাড়ায় এন ৩৯৭৩ এফ। তবে এটুকুই শেষ নয়। খানিক বাদে ছবিটির আরেকটি দৃশ্যে অবশ্য প্রথম নাম্বারটি ফেরত পায় প্লেনটি।

অ্যামেরিকান পাই

বিখ্যাত এই আমেরিকান বয়স্কদের জন্যে নির্মিত কমেডি মুভিটিও বাদ পড়েনি ভুলের হাত থেকে। এর একটি দৃশ্যে দেখা যায় স্টিফলার তার ঘরে একটি মেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করে। সেসময় মেয়েটির হাতে থাকে সাদা রংয়ের একটি গ্লাস আর তা ভর্তি ওয়াইনে।

দুজনে বিছানায় গিয়ে বসে আর কথা বলতে শুরু করে। এরপর স্টিফলারের দিক থেকে একবার ঘুরে যখন মেয়েটির দিকে ক্যামেরা যায় তখন দেখা যায় যে এতক্ষণ ধরে মেয়েটির হাতে থাকা সাদা বা স্বচ্ছ রংয়ের গ্লাসটির রং জাদুবলেই যেন নীল হয়ে গেছে। এর পর আবার ক্যামেরার কিছু ঘোরাঘুরির পর দেখতে পাওয়া যায় সেই আগের স্বচ্ছ রঙটিকেই ফেরত পেয়েছে এর গ্লাসটি।

ট্রান্সফর্মারস- রিভেঞ্জ অব দ্যা ফলেন

ছবিটির একটি দৃশ্যে স্যাম তার ঘরে একটি ছোট্ট রূপার কিউব খুঁজতে থাকে। একটা সময় অবশ্য পেয়েও যায় সে সেটা। তবে সমস্যাটা তৈরি হয় যখন সেটা হঠাত্ করেই হাত থেকে পড়ে যায় তার। আগুন লেগে যায় স্যামের ঘরে। সেই আগুন গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির নীচে থাকা রান্নাঘরটিতে। শুনতে হয়তো পুরোপুরি ঠিকই লাগছে দৃম্যটি এখন পর্যন্ত।

কিন্তু সমস্যাটা তৈরি করেন নির্মাতা যখন ছবির প্রথমেই দেখিয়ে দেন তিনি যে স্যামের ঘরের নীচে কোন রান্নাঘর নয়, বরং একটি ফাঁকা ঘর রয়েছে। আর সেই ঘরেই জ্যাজকে লুকিয়ে রাখে স্যাম। আর যদি বলা হয় রান্নাঘরের কথা তাহলে ছবির ভেতরেই নির্মাতা দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে স্যামের বাড়ির রান্নাঘরটি তার ঘরের একেবারেই উল্টোদিকে আর অনেক দূরে। তাহলে স্যামের ঘরের আগুন লাগার পর তা রান্নাঘরে পৌঁছল কি করে? ভুলটা শোধরানো হয়নি কখনো।



« (পূর্বের সংবাদ)