মেইন ম্যেনু

বিখ্যাত বলিউড তারকাদের অতীত কর্মজীবন!

তারকাদেরকে তো কতকিছুই করতে দেখা যায় চলচিত্রে। উড়ন্ত বিমানে ঝাপ দিয়ে উঠে পড়া, পানির অতল থেকে নায়িকাকে বাঁচানো, একাই কয়েকশ বিশালদেহীকে শায়েস্তা করা- এসব তো ওদের বাঁ হাতের কাজ। কত অসম্ভবকেই তো সম্ভব করে ফেলে তারা রুপালি পর্দার তারকারা।

কিন্তু এখনকার তাদেরকে দেখলে কী একটুও বোঝা যায় যে, চলচিত্রে প্রবেশের আগমুহূর্তেও ঠিক কী কী কাজ তাদেরকে করতে হয়েছে বেঁচে থাকার তাগিদে? পর্দায় তারকাদেরকে দেখে সবাই হতে চায় তাদের মতন। কিন্তু এই কঠিন সব কাজকে পানির মতন করে সম্পন্ন করে ফেলা তারকারা অতীতে দু বেলা দু মুঠো ভাত জোগাড় করতে গিয়েই যে কতটা নাকানি-চোবানি খেয়েছেন সেটা কেউ খেয়াল করে না। কারণ সেগুলো পর্দায় দেখায় না। সেসব থাকে সবার চোখের একেবারেই অন্তরালে।

আসুন জেনে নিই বলিউডে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত কিছু তারকাদের অতীত কর্মজীবন সম্পর্কে।

নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী
চলচিত্র জগতে প্রবেশের আগে কৃষকের ছেলে নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী কাজ করতেন কেমিস্ট হিসেবে। উত্তর প্রদেশে কেমিস্ট ছিলেন তিনি। তবে ছবির নেশা মাথায় ঢোকার পর বাড়ি থেকে চলে আসেন এই তারকা আর দারোয়ানের কাজ করেন টানা দেড় বছর। এরপরেই তার সুযোগ মেলে দ্য ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে।

বোমান ইরানি
মায়ের বেকারির দোকানে কাজের পাশাপাশি মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলে পরিবেশক ও রুম সার্ভিসের কাজ করতেন এই তারকা। এরপর তিনি অভিনয়ে আসেন।

সিদ্ধার্থ মালহোত্রা
প্রথমদিকে টাকার জন্যে মডেলিং আর ছোটখাটো কাজে ঢোকেন সিদ্ধার্থ। পরবর্তীতে পরিচালক করণ জোহরের সহকারী হিসেবে মাই নেম ইজ খান সিনেমায় কাজ করেন। সে সময় সঙ্গে ছিল তার প্রথম সিনেমা স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার-এর সহকর্মী ভারুন ধাওয়ানও।

পরিনীতি চোপড়া
চলচিত্রে প্রবেশের ইচ্ছা কখনোই ছিলনা পরিনীতি চোপড়ার। পড়াশোনা শেষে যশ চোপড়ার মার্কেটিং বিভাগে যোগ দেন তিনি। সে সময় নিজের অতিরিক্ত ওজন নিয়েও কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। যেটা তাকে পরবর্তীতে চলচিত্রে আসতে সাহায্য করে।

সোনাক্ষী সিনহা
শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে সোনাক্ষীও সরাসরি ছবির দুনিয়ায় প্রবেশ করেননি। এর আগে তাকে মাড়াতে হয়েছে অন্য পেশাও। ২০০৫ সালে মেরা দিল লেকে দেখোসহ বেশ কিছু ছবিতে পোশাক ডিজাইনারের কাজ করেছেন তিনি।

রণভীর সিং
চলচিত্রের দুনিয়ায় হঠাৎই চলে আসা রণভীরের। এর আগে অ্যাডভারটাইজিং এ কপিরাইটারের কাজ করতেন এই তারকা। সে সময় তিনি কাজ করেছেন ওএন্ডজে ওয়াল্টার থম্পসনের মতন প্রতিষ্ঠানে।

অমিতাভ বচ্চন
জীবনের শুরুর দিকে এই শক্তিশালী অভিনেতা কাজ করেন শ ওয়ালেন্স নামের কোম্পানিতে। সেখানে পরিচালকের কাজে যোগ দেন তিনি। এরপর বার্ড অ্যান্ড কো তেও কাজ করেন তিনি। পরে চেষ্টা করেন রেডিওতে ঢোকার। কিন্তু বাজে কন্ঠস্বরের কারণে সেখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় তাকে।

অক্ষয় কুমার
প্রথমটায় ব্যাংককে মার্শাল আর্ট শেখার জন্যে যান অক্ষয়। সেখানে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে ওয়েটার আর রাধুনীর কাজ করেন অক্ষয়। ভারত পৌঁছে প্রথমটায় মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করেন অক্ষয়। সেখানেই তার এক ছাত্র তাকে সুযোগ করে দেয় মডেলিংয়ে।

জন আব্রাহাম
মডেলিং দিয়ে কর্মজীবনের শুরু করেন জন। তবে জীবিকার তাগিদে পরে মিডিয়া প্ল্যানার হিসেবে যোগ দেন তিনি বেশ কিছু জায়গায়। এরপর ফের ফেরত আসেন চলচিত্রে নায়ক হিসেবে আর ক্যারিয়ারও গড়ে তোলেন।

রজনীকান্ত
চলচিত্রের দুনিয়ায় আসবার আগে বাস কন্ডাক্টারের কাজ করতেন এই বিখ্যাত থালাইভার খ্যাত অভিনেতা। ব্যাঙ্গালোরে কাজ করতেন তিনি তখন। পরবর্তীতে টপী মুনিয়াপ্পার চলচিত্রে পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি কুড়ান তিনি।

দিলীপ কুমার
দিলীপ কুমারের বাবার ছিল বিশাল ফলের বাগান। ফল ব্যাবসায়ী ছিলেন তিনি। ছেলেও বাবাকে অনুসরণ করে প্রথমটায় একটি ক্যান্টিন খুলেছিল। তত্কালীন সময়ে দিলীপ কুমার ক্যান্টিনের ব্যবসা শুরু করেন আর পুনেতে শুকনো ফল পাঠাতেন জীবিকার তাগিদে।

রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা
ছবি তৈরির কাজ শুরু করার আগে ছবির সেটে চা পরিবেশনের কাজ করতেন রাকেশ। শুধু তাই নয়, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার সেলসম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন এই পরিচালক অনেকদিন।

দেব আনন্দ
দেব আনন্দকে ভালোবাসেনি সে সময় এমন মেয়ে পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্তু বিখ্যাত আর জনপ্রিয় এই তারকার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মুম্বাই চার্চ গেট এলাকার সেন্সর অফিস থেকে। তখন দেবের বেতন ছিল মাসে মাত্র ১৬৫ রুপি!

আরশাদ ওয়ারসি
মানুষকে হাসাতে যথেষ্ট ভালোবাসেন আরশাদ ওয়ারসি আর সেটা পারেনও। তবে তার চলচ্চিত্র জীবন কিন্তু এতটা হেসে খেলে তৈরি হয়নি। প্রথমটায় ঘরে ঘরে গিয়ে কসমেটিক সামগ্রী বিক্রি করে বেড়াতেন তিনি। এরপর একটি ফটো ল্যাবেও কাজ করেন আরশাদ ওয়ারসি। তবে এর ভেতরেই নাচের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার আর আকবর সামীর দলে যোগ দেন তিনি। সেখানেই চোখে পড়ে যান তিনি চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষদের। বেশ কয়েকটি ছবির নাচের কোরিওগ্রাফারও ছিলেন এই অভিনেতা। ১৯৮৭ সালে ঠিকানা আর কাশ ছবিগুলোর নাম তার ভেতরে অন্যতম।

স্মৃতি ইরানি
তারকাখ্যাতি পাওয়ার আগে কারো যদি মনে খুঁতখুতানি থাকে অন্য কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে, তাহলে স্মৃতি ইরানি হতে পারে তার জন্যে আদর্শ। কিউ কি সাস ভি কাভি বহু থির মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী চলচিত্র বা টিভি মিডিয়ায় আসবার আগে ম্যাকডোনাল্ডসের ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মেহমুদ
কৌতুকের মাধ্যমে দর্শকদের পেটে খিল ধরিয়ে দেওয়া এই অভিনেতা অভিনয় জগতে আসবার আগে ছিলেন মুরগী ব্যবসায়ী। তবে বাড়তি টাকার জন্যে টেবিল টেনিসও শিখিয়ে থাকতেন মেহমুদ!

শাহরুখ খান
বলিউডকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তুলতে যারা অবদান রেখেছেন বলিউড কিং খান শাহরুখ খান তাদের ভেতরে অন্যতম। কিন্তু শাহরুখ খানের প্রথম জীবনটাও এত সহজে শুরু হয়নি। প্রথমে কনসার্ট অ্যাটেন্ডেন্ট এবং মিডিয়ায় প্রবেশের পরেও টিভির ছোটখাটো চরিত্রে বহু কষ্টে কাজ পান তিনি।