মেইন ম্যেনু

‘বিচার না হওয়ায় হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে’

বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার হত্যার ঘটনা ঘটলেও হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায় তারা একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মানবাধিকার আইনজীবীরা। প্রতিবেদন বিবিসি বাংলা।

হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বলছেন একের পর এক হত্যার এসব ঘটনায় ব্লগার এবং লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ বা আতংক ক্রমশ বাড়ছে। শুক্রবার নিহত ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জ্জী তার আগে খুন হওয়া ব্লগারদের মতই লেখালেখি করতেন মূলত ধর্ম এবং যুক্তিবাদ নিয়ে। তিনি লিখতেন নিলয় নীল নামে।

ধারণা করা হয়, ইসলাম ধর্ম নিয়ে তার পোস্ট করা লেখার কারণেই তিনি হামলার টার্গেট হন। বাংলাদেশে কেবল এবছরই একই কায়দায় এর আগে খুন করা হয় আরও তিন জন ব্লগারকে।

নিহত ব্লগারের বন্ধুরা বলছেন, বার বার আবেদন নিবেদন করার পরও হামলাকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সে কারণেই একের পর এক এরকম ঘটনা ঘটছে। নিহত নিলাদ্রী চ্যাটার্জ্জীর ঘনিষ্টরা জানিয়েছেন লেখালেখির পাশাপাশি তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

এ বছরই পর পর আরও তিনজন ব্লগারকে হত্যার যে ঘটনা ঘটে, সেসব হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।

গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের নেতা ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, “নিহত নিলাদ্রী চ্যাটার্জ্জী নিলয় নীল নামে মূলত ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লিখতেন। শুধু ইসলাম ধর্ম নিয়ে নয়, সব ধর্ম নিয়েই কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে ছিল তার লেখালেখি।”

ইমরান এইচ সরকার আরও বলেছেন, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যার ঘটনা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পর নিলাদ্রী চ্যাটার্জ্জী বাড়ি ফেরার সময় তাকে দু’জন লোক অনুসরণ করেছিল। তার প্রতি হুমকিও ছিল। এ ব্যাপারে নিলাদ্রী চ্যাটার্জ্জী নিজে পুলিশকে জানালেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিলাদ্রী চ্যাটার্জ্জীকে হত্যার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ এবং ব্লগাররা আজ একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদা সংগঠন একিউআইএস-এর বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম এই হত্যাকান্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে বিভিন্ন মিডিয়াতে ইমেল পাঠিয়েছে।

সর্বশেষ এই ব্লগারকে হত্যার ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করা হয়। এর আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিজ্যিৎ রায় এবং ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করা হয় প্রকাশ্যে কুপিয়ে। এসব হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী একজন ব্লগার বাকি বিল্লাহ বলেছেন, “একের পর এক হত্যার এসব ঘটনায় ব্লগার এবং লেখকদের মধ্যে উদ্বেগ বা আতংক বাড়ছে। অনেক ব্লগার দেশ ছেড়ে গেছে। অনেকে দেশ ছাড়ার চিন্তা করছে। কিন্তু আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী এবং রাষ্ট্র কোন ভূমিকা রাখছে না” বলে তারা মনে করেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, হত্যাকারীরা হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বিভিন্ন সময় সামাজিক নেটওয়ার্কে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের নামে বক্তব্য তুলে ধরছে। এমনকী ঢাকায় একজন ব্লগারকে হত্যার ঘটনায় দু’জন হাতেনাতে ধরাও পড়ে। তারপরও ঘটনাগুলোর তদন্তে অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল মনে করেন, হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায় তারা একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্তেই অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু এসব হত্যার ঘটনার ধরণ, উদ্দেশ্য সাধারণ হত্যার ঘটনা থেকে ভিন্ন হওয়ায় তদন্ত শেষ হতে সময় প্রয়োজন।

এ বছরে ব্লগার হত্যার ঘটনাগুলোর একটিরও তদন্ত শেষ হয়নি। শুধু ২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজিব হায়দারকে হত্যার ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।