মেইন ম্যেনু

বিচ্ছেদ হতে পারে অকাল মৃত্যুর কারণ!

একাকিত্বকে এড়াতে সঙ্গীই একমাত্র ভরসা। কিন্তু নানা সময় খুটিনাটি অনেক বিষয়ে দ্বিমত দুজনকে ঠেলে দেয় ভিন্ন পরিবেশে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পরও একটা সময় তা আর সম্ভব হয় না। হাজারো সুখের স্মৃতি দুজনকে একই সুতোই বেধে অক্ষম হয়। শেষমেষ মেনে নিতে হয় বিচ্ছেদের করুণ পরিণতি। বিচ্ছেদ শুধু বিপর্যস্ত, সঙ্গীহীন ও বিষণ্ণতাই নয়, মানুষের অকাল মৃত্যুরও কারণ হতে পারে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর অশান্ত ভাবনা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমানো লোকের রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়। এতে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, বিবাহ বিচ্ছেদ ও সঙ্গীহীনতা অনিদ্রার অন্যতম একটি কারণ।

যুক্রাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড বলেন, ‘বিচ্ছেদের প্রাথমিক পর্যায়ের কয়েক সপ্তাহে নিদ্রাহীনতা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার একটা প্রক্রিয়া। তবে বেশ লম্বা সময় ধরে অনিদ্রায় ভোগা ভিন্ন ব্যাপার। এটা বিষণ্ণতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগের লক্ষণ হতে পারে।’

এক সমীক্ষায় ১৫০ জনকে বেছে নেয়া হয়েছে, যারা প্রায় এক বছর আগে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন। প্রায় ৬ মাস ধরে তাদের স্বাভাবিক ঘুমের উপর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাদের রক্তচাপও মাপা হয়েছে নিয়মিতভাবে। গবেষকরা নিদ্রাহীনতার কারণ হিসেবে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপের তারতম্য পেয়েছেন।

সিস্টোলিক রিডার মাপা হয়েছে ধমনীতে, যখন হৃদয় স্পন্দিত হয়েছে। আর ডায়াস্টোলিক রিডার মাপা হয়েছে ধমনী আর হৃদস্পন্দনের উপর। তাদের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০। এছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের রক্তচাপে অস্বাভাবিকতা খুঁজে পান গবেষকরা। যাদের উচ্চ রক্তচাপ থাকে তারা বিষণ্ণতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়াও হতে পারে ব্রেইন স্ট্রোক। চিকিৎসকের দেয়া বিধি মেনে চললে নিম্ন রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, তালাকপ্রাপ্ত ও সঙ্গীহীন পুরুষদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা শতকরা ৩৯ ভাগ। সম্ভবত তারা বিষন্নতার শিকার হয়ে বিভিন্ন অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।