মেইন ম্যেনু

বিজেপি নেতার জিহ্বা কেটে নিলে ৫০ লাখ রুপি দেব : জান্নাত জাহান

বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতীকে পতিতার সঙ্গে তুলনা করায় বিজেপি নেতা দয়াশঙ্কর সিংয়ের জিহ্বার মূল্য ৫০ লাখ রুপি ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেত্রী জান্নাত জাহান।

উল্লেখ্য, দয়াশঙ্কর সিং উত্তর প্রদেশ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট। উত্তেজনা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে তাকে এরই মধ্যে রাজ্য বিজেপি থেকে ৬ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, তিনি দলীয় কোনো পদেই থাকতে পারবেন না। এ অবস্থায় কেউ যদি তার জিহ্বা কেটে নিতে পারে তাহলে তাকে ৫০ লাখ রুপি পুরষ্কার দেব বল ঘোষণা দেন বিএসপি নেত্রী জান্নাত জাহান।

এ খবর দিয়েছে জি নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, জান্নাত জাহান হলেন বিএসপির চন্ডিগড় ইউনিটের প্রধান। ওদিকে মায়াবতীকে পতিতার সঙ্গে তুলনা করায় বৃহস্পতিবার বহুজন সমাজ পার্টির হাজার হাজার সমর্থক হযরতগঞ্জের রাস্তাঘাট দখল করে প্রতিবাদ জানান।

এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ কর্মকর্তারা সচেতন হয়ে ওঠেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যারা ছিলেন তারাও পড়েন বিড়ম্বনায়। এ প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন রাজ্য বিএসপি প্রধান রাজ আচল রাজভর।

তিনি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি যে দলিতশ্রেণী বিদ্বেষী তার প্রকাশ পেয়েছে দয়াশঙ্করের ওই মন্তব্যে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন পোর্টালে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের রাজনীতিক মায়াবতীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন বিজেপি নেতা
উত্তর প্রদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট দয়াশংকর সিং। বিএসপি নেতা মায়াবতীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি যৌনকর্মীর চেয়েও হীন।’

উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে মায়াবতীর সমালোচনা করতে গিয়ে এ বেফাঁস মন্তব্য করেন দয়াশংকর। তিনি বলেন, ‘যখন বিএসপির টিকিট বণ্টনের সময় আসে, তখন মায়াবতীর আচরণ হয় যৌনকর্মীর চেয়েও হীন।’

এ ধরনের অশালীন মন্তব্য করার পর দয়াশংকর সিং ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু মায়াবতী তা প্রত্যাখ্যান করে তার জিহ্বার মূল্য নির্ধারণ করলেন ৫০ লাখ রুপি ।

বুধবার দয়াশংকরের গ্রেপ্তার দাবিও করেছেন মায়াবতী। এর আগে দলীয় নেতার এমন অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি।

দয়াশংকরের মন্তব্য নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে নিন্দার ঝড় তুলেছে। সব দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের জঘন্য মন্তব্যের জন্য নিন্দা জানানো হয়েছে।

রাজ্যসভায় মায়াবতী বলেন, ‘আমি চারবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি লোকসভারও সদস্য ছিলাম। কিন্তু আমি কখনো কারো বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেনি। দয়াশংকর আমাকে অপমান করেননি, তিনি অপমান করেছেন তার মাকে, বোনকে এবং ভারতের সব নারীকে।’