মেইন ম্যেনু

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা

বিজয় দিবসের আগেই রায়

আসছে বিজয় দিবসের আগেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার-নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। এমন আশাবাদের কথা জানা গেছে রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবীর কাছ থেকে।

আগামি ২১ আগস্টের আগে এ মামলার রায় হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি বিশেষ পিপি সৈয়দ রেজাউর রহমান এ বছরের মধ্যেই এ মামলার বিচার নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় এ পর্যন্ত ৪৯১ জন সাক্ষির মধ্যে ১৭৬ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। সব সাক্ষিরই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘সব সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজন হবেনা।’

তবে মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমাণের জন্য এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যেসব সাক্ষির সাক্ষ্য প্রয়োজন তাদের সাক্ষ্য নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তার মানে কি আপনারা কেবলই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার কথা বলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাক্ষির গুরুত্ব এখানে বিবেচ্য নয়, সাক্ষ্যের গুরুত্ব এখানে বিবেচনা করা হবে। যাদের সাক্ষ্য মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্টে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুই মামলার তদন্ত ও বিচার কাজ এগার বছর অতিক্রান্ত হবে বৃহস্পতিবারের রাত পোহালেই।

মামলা দুইটির ৪৯১ জন সাক্ষির মধ্যে এ যাবৎ ১৭৬ জন সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপির বক্তব্য অনুযায়ী আরও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সাক্ষির সাক্ষ্য রাষ্ট্রপক্ষে গ্রহণ করা হবে। যে গতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে তাতে আর ২৫-৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বড়জোর মাস দুয়েক সময় লাগবে।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দু’টি বিচারাধীন।

গত ১৯ আগস্ট মামলা দুইটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুব মহিলা লীগের কর্মী এই ঘটনায় আহত নুজহাত আরা খান এ্যানি ১৭৬ তম সাক্ষি হিসেবে সাক্ষ্য দেন।

বিচারক মো. শাহেদ নুর উদ্দিন এ সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণের পর আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

মামলাটির বিচার বিলম্বের কারণ সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী বিশেষ পিপি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান, প্রথমে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে চার্জশিট হলেও তা সম্পূর্ণ ছিল না। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলা দুটি অধিকতর তদন্তে যায়। দুই দফা তদন্তে ছয় বছর সময় ব্যয় হয়। অন্যদিকে আসামি পক্ষ বিচার বিলম্বের জন্য কয়েকদফা উচ্চ আদালতে গেছে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ মামলা দুটি বিচার শেষ করতে তড়িঘড়ি করছেন। তারা তড়িঘড়ি করে বিচার শেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেয়ার চেষ্টা করছেন।’

২০০৮ সালের ১১ জুন সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনর বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। এরপর বিচারে ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের নির্দশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ফের বিচার শুরু হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি জেলহাজতে আটক আছেন। অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বর্তমান বিএনপির এমপি কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শ’। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি তার স্বাভাবিক শ্রবণশক্তি হারান।