মেইন ম্যেনু

বিদেশি হত্যায় শক্তিশালী চক্র

রাজধানীর কূটনীতিকপাড়ায় গত সোমবার সন্ধ্যায় ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শক্তিশালী চক্রের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবশ্যই শক্তিশালী এক চক্র রয়েছে, তারা একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশে নয়, এটা এখন বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের অর্জিত অগ্রগতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয় ছাড়াও, সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী সাংবাদিকরা বর্তমান রাজনৈতিক ও স্থানীয় ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

এসময় ঢাকায় ইতালির একজন নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে আইএসের দায় স্বীকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিকাগো থেকে এক বার্তায় এই হত্যাকাণ্ডে আইএস সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখনো কেউ এ দাবি করেনি। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী- জঙ্গিবাদে নয়। আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চাই না। একজন বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে আমরা খুবই ব্যথিত। এটা দুঃখজনক ঘটনা।’

একজন ইতালীয় নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকাস্থ কয়েকটি দূতাবাস ঢাকায় অবস্থানকারী তাদের নাগরিকদের জন্য রেড অ্যালার্ট জারির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেড অ্যালার্টের কোনো যৌক্তিকতা নেই। নাজমুল যখন নিউইয়র্কে নিহত হয়েছিলেন, সে সময় আমরা এ ধরনের কোনো রেড অ্যালার্ট দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে কয়েক বছর আগে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার রেড অ্যালার্ট জারি করেনি। অন্যান্য দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের প্রতি এ ধরনের কোনো অ্যালার্ট জারি করেনি। আমি জানি না ঢাকায় দূতাবাসগুলো কেন এমনটা করলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের নাগরিকদের জন্য রেড অ্যালার্ট দেয়ার কী কারণ থাকতে পারে। আমি জানি না, তবে ওই ঘটনার পরপরই বিএনপির একজন নেতার সন্দেহজনক তৎপরতা দেখেছি। আমি মনে করি, ওই বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকাণ্ড রহস্যের উন্মোচন হতে পারে। দেশে ফিরে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবো।’

যথেষ্ট নিরাপত্তা না থাকার ‘অজুহাতে’ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট টিম কেন বাংলাদেশ সফরে আসছে না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। পাকিস্তান ও ভারতীয় দল বাংলাদেশে খেলেছে। এমন কি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজনও হয়েছিল এখানে। এটা সম্পূর্ণভাবে অষ্ট্রেলিয়ার ব্যাপার যে, কেন তারা বাংলাদেশে সফরে না আসার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অতীতে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে অনেক ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেক দেশেই তা ঘটেছে- কিন্তু বাংলাদেশে নয়। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের জনগণও খুবই সচেতন।’

এদিকে ধর্ম অবমাননার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ধর্মীয় রীতি-নীতি অস্বীকার করলে এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু কেউ ধর্ম বিশ্বাসীদের (আস্তিক) অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে না। যদি কারো ধর্মে বিশ্বাস না থাকে, তবে তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন না। কিন্তু অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া অগ্রহণযোগ্য। কারো এটা করা উচিৎ নয়। আমার চোখে এটা জঘন্য কাজ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ খুঁজছে। অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার ঘটনা চলতে থাকলে তা হবে একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। আমাদের ধর্ম অবমাননা বন্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। অন্যথায় এমন ঘটনা অব্যাহত থাকবে।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহিমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসময় উপস্থিত ছিলেন।