মেইন ম্যেনু

বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ঠ কলারোয়ার জনজীবন

ঘন ঘন বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ঠ সাতক্ষীরার কলারোয়ার জনজীবন। নানাবিধ কারণে লোডশেডিং এর কবলে পড়ে দূর্বিসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে উপজেলার কয়েক হাজার পল্লী বিদ্যুত গ্রাহককে। ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বিদ্যুতের বারংবার আসা-যাওয়ার খেলায়।
গত কয়েক মাস তুলনামূলক বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ আশাব্যঞ্জক হলেও অতি সম্প্রতি তার বিপরীত চিত্র দেখা দিয়েছে। সোমবার তার মাত্রা আরো ছাড়িয়েছে। দিনভর ও সন্ধ্যায় বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে বিরক্তি প্রকাশ করছেন প্রায় সকলে। সোমবার সকালে বিদ্যুতের লোডশেডিং এর পর দুপুর থেকে একটানা বিদ্যুতহীন থেকে যখন আলোর দেখা মিললো তখন প্রায় সন্ধ্যা। আবার সন্ধ্যার পরেও লোডশেডিং। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা না পাওয়ায় এসএসসির চলমান নির্বাচনী পরীক্ষার্থী, আসন্ন ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জেএসসি পরীক্ষার্থী, নভেস্বর মাসের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া পিএসসি ও বার্ষিক পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়ায় মারত্বক ব্যাঘাত ঘটছে।
জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার গুলো পর্যাপ্ত ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন না। কলারোয়া উপজেলা জন্য গোপিনাথপুর সাব-স্টেশনের ট্রান্সফরমার ৫ এমভি এ বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু এ এলাকায় চাহিদা রয়েছে ১৭ কেভি বিদ্যুতের। পল্লী বিদ্যুতের অন্যান্য এলাকার ট্রান্সফরমার গুলো সাধারণত ১৩ কেভি। ফলে ঐ সমস্ত এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪ কেভি বিদ্যুতের লোডশেডিং করতে হয়।
ফিউজ নষ্ট, ট্রান্সফরমার নষ্ট, রাইট ওয়ে বা রাস্তার পাশের গাছের ডাল পালা কাটার সময় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করতে হয়। এছাড়া সরকারের টার্গেট অনুযায়ী প্রতি মাসে সাড়ে ৪ হাজার নতুন সংযোগ দিতে হচ্ছে। এ হিসাবে গত ৫ মাসে উপজেলায় কয়েক হাজার নতুন গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে।
ঝাউডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়ার গোপিনাথপুর ৫ কেভি এ বিদ্যুত স্টেশনকে ১০ কেভি এতে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী মাস খানিকের মধ্যে শেষ হতে পারে ওই কাজ।
এছাড়া সাতক্ষীরার আলীপুর ও বিনেরপোতায় ১০ কেভি করে দুটি সাব-স্টেশনের কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। হয়তো তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর মাত্রা সাতক্ষীরায় অনেকাংশে কমে যেতে পারে।