মেইন ম্যেনু

বিদ্যুৎবিহীন মাটির ফ্রিজ, দাম হাতের নাগালেই

অনেকেই ফ্রিজ কেনার সময় বিদ্যুত খরচের কথা ভাবেন। এতে দেশেরও অর্থনীতির একটি বড় অংশ ব্যয় হয়। বিদ্যুতের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। তবে এবার একটি সুখবর আছে। তা হল বিদ্যুৎ ছাড়াই চলবে ফ্রিজ। এটি যেমন সহজলভ্য তেমনি সরল ব্যবহার। এতে অর্থনীতি ও বিদ্যুৎখাতের ওপর থেকে চাপ কমানো সম্ভব।

বিদ্যুৎবিহীন এই ফ্রিজটি মাটির তৈরি। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে চলার উপযোগী। এমন ফ্রিজ তৈরি করেছে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এখন তা বিক্রির জন্য বাজারেও ছেড়েছে। ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের মিত্তিকুল নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ফ্রিজ বানিয়ে বিক্রি করছে। আর ব্যবহারকারীরা বলছেন, এতে খাবার যথেষ্ট ঠাণ্ডা থাকে। কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজনও হয় না। খাবার সংরক্ষণের পাশাপাশি মাটির ফ্রিজটিতে রয়েছে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যেখান থেকে গরম পরিবেশে ঠাণ্ডা পানি পাওয়া যায়।

এ ফ্রিজটি ভারতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও নানা সম্মাননা পেয়েছেন নির্মাতা মানসুখভাই প্রজাপতি।

পরিবেশসম্মত এ ফ্রিজটিতে রয়েছে খাবার রাখার জন্য দুটি পৃথক চেম্বার ও পানি রাখার একটি চেম্বার। এ ফ্রিজটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় চার ধরনের ভিন্ন কাদামাটি। আর এ ফ্রিজের ভেতরে সংরক্ষিত পানি বাষ্প হয়েই ঠাণ্ডা রাখে ভেতরের খাবার।

নির্মাতারা জানিয়েছেন, ফ্রিজটির ভেতরের তাপমাত্রা আট ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। বহু অঞ্চলের মানুষের ফ্রিজ কেনার ও বিল দেওয়ার মতো অর্থও নেই। সেসব অঞ্চলের মানুষের খাবার সংরক্ষণে এ ফ্রিজটি খুবই কার্যকর হবে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে ফ্রিজটির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এটি দেখে স্থানীয় নির্মাতারাও তা বানানোর ধারণা নিতে পারবেন।

ফ্রিজটি চলার জন্য শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে আর্দ্রতা কিছুটা কম সেসব অঞ্চলে এ ধরনের ফ্রিজ ব্যবহারে বিদ্যুৎ ও অর্থ সাশ্রয় সম্ভব।