মেইন ম্যেনু

বিধি ভাঙছে আ.লীগ, বিএনপিকে প্রচারণায় বাধা

আসন্ন বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নির্বাচনী কাজে বাধা দেয়ার ঘটনা। পৌরসভার ২১ ওয়ার্ডের মধ্যে ২-৪টিতে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীদের পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা প্রদান এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বগুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবগুলো ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দিলেও বিএনপি ৩নং ওয়ার্ড ছাড়া বাকি সবগুলোতে প্রার্থী দিয়েছে। এসব ওয়ার্ডের মধ্যে ১, ৪ এবং ১৫ ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ওয়ার্ডে সরকারদলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিএনপি প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে তাতে আগুন দিয়েছে। প্রচার মাইক আটকে রাখা এবং মাইক বহনকারী রিকশা চালককে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে চারমাথা এলাকায় ১৫নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানার প্রচার মাইক আটকে রেখে রিকশা চালককে মারপিট করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে ৪নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন বিএনপি প্রার্থী তাইজুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচার মাইক আটকে রাখে। মাইক ছাড়িয়ে নিতে গেলে কাউন্সিলর প্রার্থী তাইজুল ইসলামকেও আটকে রাখা হয়। তিনি পুলিশ সুপারের কাছে ফোনে অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এছাড়া শুক্রবার সকালে ১৫নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানার নির্বাচনী প্রচারণাকালে বেশ ক’জন নারী কর্মীকে আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। ৫নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আনন্দ চন্দ্র দাস জানান, বাদুড়তলা এলাকায় রাতের আধারে তার নির্বাচনী পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনী আচরণবিধিতে দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষেধ করা হলেও বগুড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম মন্টুর নৌকা মার্কার পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন কিম্বা রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রশাসনের নিরবতার কারণে ধীরে ধীরে বগুড়ার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হতে চলেছে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।

জেলা রিটার্নিং অফিসার হায়াত-উদ-দৌলা জানান, নির্বাচনী কাজে বাধা প্রদান এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হবে।