মেইন ম্যেনু

বিনা দোষে ৪৪ বছর জেলে

‘বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে।’ প্রায় অর্ধশতক কারাগারে কাটানোর পর জানতে পারলেন তিনি নির্দোষ। ভরা আদালতে বিচারক যখন ঘোষণা করলেন, প্রিন্স জনসন নির্দোষ। তিনি খুন করেননি। তখন ৬০ বছরের বৃদ্ধ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নাড়ছেন। দুই হাত জড়ো করে প্রভুর উদ্দেশ্যে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এজলাসে তখন প্রিন্সের গোটা পরিবারের চোখে পানি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির বাসিন্দা জনসন হাজতবাস হয়েছিল একটি নৃশংস খুনের মামলায়। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে। ১৯৭১ সালে যখন জেল হয় তখন প্রিন্স জনসন ১৬ বছরের তাজা কিশোর। আইনের চোখে তিনি তখন নাবালক হলেও অপরাধের নৃশংসতায় তাকে সাবালক হিসেবেই বিচার করা হয়।

‘৭১ সালের দ্য মায়ামি হেরার্ল্ড-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭০ সালে একটি আইসক্রিম ট্রাক লুট করার জন্য মার্টা রোমান নামে এক মহিলাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ছিল জনসন ও তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। আঙুলের ছাপ দেখে জনসনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সরকারি আইনজীবী তখন প্রিন্সের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করলেও বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সাজা শোনান। সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে, প্রিন্স খুন করেননি। খুনটা অন্য কেউ করেছিল। আসলে প্রিন্স সেদিন ডাকাতি বা খুনের ঘটনায় যুক্তই ছিলেন না। মায়ামি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হন প্রিন্স জনসন।

কিন্তু আর কী… জীবনের চুয়াল্লিশটা বছরই কেটে গেল কারাগারে। যে বিচার ব্যবস্থা জনসনের সারা জীবন শেষ করে দিল, সেই আদালতের বিচারকের কথায়, ‘আমি জানি না তখন কী হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমি জানি, আমি ঠিক কাজ করেছি।’