মেইন ম্যেনু

বিনা নোটিশে বন্ধ থাকে রাবির ক্যাফেটরিয়া!

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাবি প্রতিনিধি: তপ্ত দুপুর। সময় ১.৩০ মিনিট। চৈত্রের রৌদ্রে ক্লান্ত সবাই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ক্লাস শেষে করে খেতে আসেন কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়ায়। কিন্তু ক্যাফেটরিয়ায় তখন চলছে বাংলা বিভাগের এ্যালামনাই অনুষ্ঠানের মধ্যহ্ন ভোজন পর্ব। আর এজন্য কামরুলের মত শত-শত শিক্ষার্থীরা খাবার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আর ততক্ষণে হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনের খাবারও শেষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ভাড়া দেয়ায় এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়া এখন কমিউনিটি সেন্টারে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাফেটরিয়াটি ভাড়া দেয়া হয়। ক্লাস শেষে খাবার খেতে এসে হঠাৎ দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলতে। আর আগে থেকেও কোন ধরনের নোটিশ দেয়া হয় না। এতে করে হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যও ক্যাফেটেরিয়ার প্রশাসক ভাড়া দেন বলে অভিযোগ আছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাফেটরিয়ার দরজা জানালাগুলো বন্ধ। সামনের ফাঁকা জায়গায় সামিয়ানা দিয়ে ঘিরে প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানে বাংলা বিভাগের দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা এসে খাবার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার হলে ফিরেও ডাইনিং ক্যান্টিনে খাবার খেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়া ভাড়া দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অনুষ্ঠানের জন্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে পিকনিক করতে আসা দর্শনার্থীরাও ক্যাফেটরিয়া ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের স্থানীয়দের একাধিক বিয়ের অনুষ্ঠান ক্যাফেটরিয়া ভাড়া নিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়ার প্রশাসক অধ্যাপক অহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না বলেই ফোন রেখে দেন।

জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান-২ বলেন, ‘বিষয়টি আমি এই প্রথম জানতে পারলাম। যদি ক্যাফেটরিয়া এভাবে ভাড়া দেয়া হয়, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে ক্যাফেটরিয়া খোলা রাখা দরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হবে।