মেইন ম্যেনু

বিনয় ও নম্রতা ছিল রসুল (সা.)-এর ভূষণ

বিনয় ও নম্রতা সর্বকালের সেরা মানব রসুলে পাক হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভূষণ। তিনি এতটা বিনয়ী ছিলেন যে, তার তুলনা মেলাই ভার। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো হেলান দিয়ে আহার করতে দেখা যায়নি এবং তার পেছনে কখনো দুজন লোককেও চলতে দেখা যায়নি (আবু দাউদ থেকে মিশকাতে)।

উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটাই বিনয়ী ও নিরহংকার ছিলেন যে, কখনো আহারের সময় হেলান দিয়ে আত্মম্ভরিতার পরিচয় দিতেন না। তিনি তার পরিমণ্ডলের সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও পথচলার সময় কখনো নিজে অগ্রবর্তী অবস্থানে থাকতেন না। সবাইকে সামনে রেখে নিজে পেছনে থাকতেন। আত্মগরিমা যাতে তাকে স্পর্শ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বিনয় ও বিনম্রতাকে তার অভ্যাসের অংশে পরিণত করেছিলেন। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে আল্লাহর রসুল সর্বাগ্রে তাকে সালাম দিতেন। এমনকি শিশুদের দেখলেও তাদের সালাম দিয়ে সম্মানিত করতেন। কারও সঙ্গে কথা বলার সময় সাক্ষাৎপ্রার্থীর কথা শেষ হওয়ার আগে তিনি মুখ খুলতেন না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয় এবং নম্রতার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে আরেকটি হাদিসে। হজরত উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমরা বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন কর। কেননা আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ তার মর্যাদা সমুন্নত করেন। সে লোকদের দৃষ্টিতে মহান হিসেবে পরিগণিত হয়। আর যে ব্যক্তি গর্ব ও অহংকার করে আল্লাহ তাকে হতাশ করেন। যদিও সে নিজেকে বড় মনে করে কিন্তু সে মানুষের দৃষ্টিতে নীচ ও মর্যাদাহীন হয়ে যায়। এমনকি সে তাদের দৃষ্টিতে কুকুর ও শূকরের চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত হিসেবে বিনয়ী ও বিনম্র হওয়ার তৌফিক দান করুন।