মেইন ম্যেনু

বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিন আত্মবিশ্বাসের সাথে!

আমাদের দেশে বিয়ে শুধু দু’টি মানুষের বন্ধন নয়। বিয়ে হয় দুই পারিবারের। একটি বিয়ের সাথে জড়িয়ে থাকে অগুনতি স্বপ্ন। আপনি নারী হোন বা পুরুষ, আপনার জীবনসঙ্গী কেমন হবে তা নিয়ে যেমন থাকে অনেক কল্পনা তেমনি তার সঙ্গে সংসার কেমন হবে, দিনগুলি কেমন যাবে সেটাও ভেবে রাখেন অনেক আগে থেকেই। ভাবনাগুলো একসময় রূপ নেয় প্রত্যাশায়। বিয়ের পর যখন দেখেন প্রত্যাশাগুলো মিলছে না তখন আস্তে আস্তে হতাশ হতে থাকেন আপনি।

এমন পরিস্থিতিতে আমরা চাই মানিয়ে নিতে। চাই কোনভাবেই যেন সম্পর্কটি শেষ না হয়। আমরা ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যাই, কিন্তু সমাজের সামনে, বন্ধু পরিজনের সামনে আমরা কোনভাবেই তা প্রকাশ করতে চাই না। ভাল আছি, সুখে আছি- এই ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চাই সবসময়। মানসিক শান্তি বজায় রাখতে নিজেকে ব্যস্ত রাখি নানান কাজে। বেড়াতে যাই, বন্ধুদের সাথে সময় কাটাই। করি সেই সব কিছু যা আমাদের মনোযোগকে এই অপ্রাপ্তি থেকে মুক্তি দেয়। এমনকি প্রয়োজনে আমরা কাউন্সেলিং নিই।

তারপর যখন আরও খারাপ অবস্থা হয়, তখনো কিন্তু হাল ছাড়ি না। আমরা চিন্তা করি আমাদের সন্তানদের কথা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর কী হবে তাদের! তারা কার সাথে থাকবে, তাদের মানসিক অবস্থা কী হবে? আমাকে দোষারোপ করবে কিনা!- এমন নানান চিন্তায় ভারাক্রান্ত হতে থাকি প্রতিনিয়ত। ভাবি বাবা-মা এর কথা। আত্মীয়-পরিজনদের কথা। কে কী বলবে, কী ভাববে, সামাজিক মর্যাদা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এই সব প্রশ্ন পাহাড় সমান বোঝা হয়ে জেঁকে বসে আমাদের মাথায়। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি একই ছাদের নীচে থাকার।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সফল হোন না এরকম দম্পত্তিরা। এক সময় মেনে নিতেই হয়, প্রানহীন এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোন মানে নেই। জীবন শ্বাস নিয়ে বাঁচতে চায়। ধুকে ধুকে চলা নিত্যদিন থেকে বেড়িয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ নয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিগুলো তখনো বিদ্যমান। তবু শক্ত হতে হয়। লড়াইয়ের জন্য পা বাড়িয়ে অনেক সময়ই দেখা যায়, এতদিনের বন্ধুরা কেউ নেই পাশে। পাশে নেই পরিবার, সন্তান। কী করবেন এমন অবস্থায়?

উত্তর সানফ্রানসিসকোতে কর্তব্যরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত থেরাপিস্ট সুসান পিস গাদোয়া বিবাহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দ্বিধাদ্বন্দে থাকা এইসব মানুষের ভয়ংকর সময়ে সাহস যোগাতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আসুন জেনে নিই সেগুলো।

১। নিজের সম্পর্কে মতামত তৈরি করুন
নিজের খারাপ পরিস্থিতিগুলো লুকিয়ে না রেখে বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি করে নিন। জানান পরিবারকেও। তাদেরকেও বুঝতে দিন এরকম সিদ্ধান্ত কেউ শথের বশে নেয় না। বরং কতটা বাধ্য হয়ে আপনি এই পথা পা বাড়ানোর কথা ভাবছেন, তা শেয়ার করুন। তবে অবশ্যই এমন মানুষদের কাছে বলা থেকে বরত থাকুন বা সতর্ক থাকুন যারা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত এই বিষয়টিকে আপনার বিরুদ্ধে ব্যভার করতে পারে।

২। থেরাপিস্টের সাহায্য নিন
মনকে শান্ত রাখতে, অনের শক্তি ধরে রাখতে একজন থেরাপিস্ট এর সাহায্য নিন। যাতে করে আপনার এই অনুভূতি না হয় যে আপনি স্বার্থপর, একজন প্রফেশনাল থেরাপিস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারে একেবারে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে।

৩। শেষ চেষ্টা করে দেখুন
আপনার সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখতে সবরকম চেষ্টা আপনি নিশ্চই করেছেন। তবু আর কোন উপায় যদি থেকে থাকে শেষ চেষ্টাটা করেই দেখুন! এরপরও আপনার সিদ্ধান্ত নাও বদলাতে পারে। কিন্তু আপনার মনে এই শান্তি থাকবে যে, আপনি চেষ্টার কোন ত্রুটি করেন নি। তবে হ্যাঁ, যে সম্পর্ক ভালবাসার, যে সম্পর্ক শ্রদ্ধার ত্যাগ দিয়ে তা টিকিয়ে না রাখাই ভাল।

৪। লিখুন
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেস থেকে রেহাই পেতে লাখালেখি বেশ কাজে দেয়। আপনার মনের কথাগুলো লিখে ফেলতে পারেন কাগজে। মস্তিষ্কের চাপ বেরিয়ে আসবে কলমের কালির পথ ধরে।

৫। সততার পরিচয় দিন
আপনার সঙ্গীর প্রতি সৎ হোন। অনেক সময় তালাকের কারণ শারিরিক নির্যাতন বা দৃশ্যমান ভয়াবহ কিছু নাও হতে পারে। শুধু মনের অমিল থেকেই তৈরি হতে পারে কখনো না মিটতে চাওয়া দূরত্বগুলি। যা যেমন তাই প্রকাশ করুন। সত্য সবসময় নিষ্ঠুরই হয়, কিন্তু তা মনের বোঝা কমায়।

৬। বিচারক মানসিকতার মানুষদের এড়িয়ে চলুন
কিছু মানুষ থাকে আমাদের চারপাশে যারা সবসময় আপনার পরিস্থিতিকে বিচার করতে চাইবে। বলতে চাইবে, আপনি ভুল করছেন, না করাই উচিত ইত্যাদি। এদের এড়িয়ে চলুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।

৭। আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন
আপনার সবচেয়ে ভাল বন্ধু আপনি নিজে। নিজের প্রতি বিশ্বাস কখনো হারাবেন না। আপনিই জানেন সবচেয়ে বেশী কোনটা আপনার জন্য ভাল। তাই নিজেকে প্রশংসা করুন, আপনি সাহসী। সবাই যা পারে না আপনি পারছেন।

একটাই জীবন। ভাল থাকতে চাওয়া কোন অপরাধ নয়। নিজেকে ভালবাসাও দোষের কিছু নয়। তাই নিজেকে আরও ভাল বাসুন। নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। ভাল থাকুন।