মেইন ম্যেনু

বিমান ছিনতাইকারী গ্রেফতার : জিম্মি নাটকের অবসান

চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের পর ছিনতাইকারীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অবসান হলো বিমান ছিনতাই নাকটীয়তার। ইজিপ্ট এয়ারের ১৮১ নম্বর ফ্লাইটের সব যাত্রী ও আরোহীকে মুক্তি দিয়েছে ছিনতাইকারী।

মঙ্গলবার সকালে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রোগামী ইজিপ্ট এয়ারের ১৮১ নম্বর ডমেস্টিক ফ্লাইট সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অতরণ করাতে বাধ্য করে ছিনতাইকারী। বিমানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়ায় পাইলট বাধ্য হন বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করতে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত জিম্মি করে রাখা সাতজনকে ছেড়ে দেওয়ার পর ছিনতাইকারী নিজে বিমান থেকে হাত উঁচু করে নেমে আসেন। তবে কেন তিনি এ কাজ করেছেন, তা এখনো অপরিষ্কার।

ছিনতাইকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে। কোনো গণমাধ্যম বলছে, ছিনতাইকারীর নাম সাইফ আলদিন মুস্তাফা। তিনি সাইপ্রাসে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য এ কাজ করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে মুস্তাফার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। অন্য কিছু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মিশরে নারী বন্দিদের মুক্তির দাবিতে তিনি বিমান ছিনতাই করেছেন। এই দুই ধরনের তথ্যের কোনোটিই বিশ্বাসযোগ্য কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিমানে জিম্মি নাটকের অবসানের বিষয়টি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের টুইটার পেজে নিশ্চিত করেন। টুইটে বলা হয়, ‘সমাপ্ত। ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে।’

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, লারনাকা বিমানবন্দরে ১৮১ নম্বর ফ্লাইট অবতরণ করার পর ছিনতাইকারী আরবি ভাষায় লেখা চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। সেখানে তার স্ত্রীকে ডাকার জন্য বলা হয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস হেসে উঠে বলেন, ‘সব সময় কোনো না কোনো নারী যুক্ত থাকে।’

ইজিপ্ট এয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছিনতাই হওয়া বিমানে ৫৬ যাত্রী, ছয় ক্রু এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন। আগে এ সংখ্যা বলা হয়েছিল ৮১।

এক বিবৃতিতে মিশরের বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ২৬ জন বিদেশি। এদের মধ্যে ১২ জন মার্কিনি, চারজন ব্রিটিশ, চারজন ডাচ, দুজন বেলজিয়ান, দুজন গ্রিক এবং একজন করে ফরাসি, ইতালিয়ান, সিরীয় ছিলেন।

এ ঘটনার পর সাইপ্রাসের দক্ষিণ উপকূলীয় বিমানবন্দর লারনাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর গন্তব্য পাল্টে দেওয়া হয়েছে।